কুষ্টিয়ায় যুবলীগ নেতার মামলায় দুই সাংবাদিক কারাগারে

কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১
  • ৩৭ বার পঠিত

কুষ্টিয়ায় নির্মানাধীন মেডিকেল কলেজ প্রকল্প সংক্রান্ত আইএমইডি’র তদন্ত রিপোর্টের সূত্র ধরে করা প্রতিবেদনে সংক্ষুব্ধ যুবলীগ নেতার দায়ের করা তথ্য প্রযুক্তি নিরাপত্তা আইনের মামলায় “ভয়েজ অব কুষ্টিয়া” নামের স্থানীয় একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের প্রকাশক ও সম্পাদক মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল এবং বার্তা সম্পাদক অঞ্জন কুমার শীল শুভ’কে গ্রেফতার করেছে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ। বুধবার ভোর রাতে তাদের নিজ বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসে গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম। পরে বিকেলে তাদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের প্রযুক্তি নিরাপত্তা আইনে মামলা রেকর্ড করে সন্ধ্যায় আদালতে সৌপর্দ করে পুলিশ।
বুধবার বিকেল ৫টায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার দুই আসামীকে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে সৌপর্দ করলে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন বলে নিশ্চিত করেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক সঞ্জয় কুমার।
গ্রেফতারকৃত দুই সাংবাদিকের বাড়ি সদর উপজেরার নলখোলা পাটিকাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মৃত: মুন্সী মখলেসুর রহমানের ছেলে মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল(৪২) এবং কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়াস্থ এসভিপি সড়কের বাসিন্দা মৃত: অখিল কৃষ্ণশীলের ছেলে অঞ্জন কুমার শীল শুভ(২৮)।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মামলা বাদি মিজানুর রহমান মিজুর দেয়া এজাহার সুত্রে জানা যায়, গত ২৮জুন “ভয়েস অফ কুষ্টিয়া” নামে সরকারের অনুমোদনহীন একটি নিউজ পোর্টাল সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে বাধাগ্রস্ত ও ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার হীণ উদ্দেশ্যে “কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ও কাঠ ব্যবহার” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে। উক্ত মিথ্যা খবরের শেষাংশে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে একটি ভবন নির্মানে রডের পরিবর্তে বাঁশ ও কাঠ ব্যবহারের কথাও উঠে আসে প্রতিবেদনে। ২০১৯ সালের ১জানুয়ারী ভবনের একটি অংশ ধ্বসে পড়ে এতে ১ শ্রমিক নিহত ও ১০ শ্রমিক আহত হন। মেডিকেল কলেজের নির্মান শেষ হওয়া কোন অংশ ধ্বসে পড়েনি। নির্মান কাজ চলাবস্থায় দুর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে’। এজাহারে এমনটি দাবি করে মিথ্যা বানোয়াট ও হীনউদ্দেশ্য মূলক সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ এনেছে এজাহারকারী। মামলাটিতে দুইজনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত অঞ্জন কুমার শীল শুভর স্ত্রী স্মৃতি বানী শীলের অভিযোগ, “গত ১১জুন গভীর রাতে নারীর উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ২১জুন কুষ্টিয়া মডেল থানায় হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার অভিযোগে মামলা করেন আহত ওই নারীর মা। এই ঘটনার নিউজ প্রকাশ হয়েছিলো ভয়েস অব কুষ্টিয়ায়। ওই মামলায় এজাহারে মিজানুর রহমান মিজুর নাম ছিল। ওই সংবাদের প্রতিশোধ নিতেই আমার স্বামীর বিরুদ্ধে এই বানোয়াট অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা করে হয়রানি করছে”।

শাহীন আহমেদ জুয়েলের স্ত্রী সেলিনা আক্তারের জানায়, বুধবার ভোর রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে আমাদের থানাপাড়াস্থ বাসা তাকে তুলে নিয়ে যায়। পুলিশ আমাকে জানায় জুয়েলের সাথে আমরা একটু কথা বলতে চাই। কিছু তথ্য জানা দরকার সেজন্য নিয়ে যাচ্ছি। বিকেলে শুনি জুয়েলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা হয়েছে। দেখুন, কুষ্টিয়া মেডিকেলের অনিয়মের বিষয়ে সারা কুষ্টিয়াবাসী জানে, আপনারাও জানেন, তাছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে তদন্তেও প্রমান পাইছে অনিয়মের কথা, সরকারের তদন্ত রিপোর্ট ধরিই ভয়েস অব কুষ্টিয়া অনলাইন পত্রিকায় নিউজ হইচে। মামলা যদি করতিই হয় সরকারের ওই তদন্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে করুক। এটা হয়রানি করার জন্যই মামলা করেছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি পুলিশ পরিদর্শক সাব্বিরুল আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পূর্বের কোন সংবাদ প্রকাশের সাথে এই মামলার সম্পর্ক নেই। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ও কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে বলে একটি সংবাদ প্রকাশ করে তাঁরা ফেসবুকে ভাইরাল করেছে। এঘটনায় দুইজনের নামে তথ্য প্রযুক্তি নিরাপত্তা আইনে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্তে সবকিছু বেড়িয়ে আসবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়