কুষ্টিয়া আপন ট্রেডার্সের মালিক মামলাবাজ আলাউদ্দিনের প্রতারণার শিকার তিন ব্যবসায়ী

কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১
  • ৬৫ বার পঠিত

কুষ্টিয়ার মেসার্স আপন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মামলবাজ ও প্রতারক আলাউদ্দিনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন কুষ্টিয়া সহ শরীয়তপুরের দুই স্বনামধন্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। আলাউদ্দিন ঠিকাদারী কাজে ব্যবহৃত মালামাল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সময় মত মালামাল সরবরাহ না করায় ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে ফেলে উল্টো পাওনার টাকার অতিরিক্ত টাকার অংক চেকে উল্লেখ পূর্বক ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কুষ্টিয়ার আপন টেডার্স এর মালিক তিন ব্যবসায়ির ৩ টি চেক ডিজঅনার করে কুষ্টিয়ার ভাই ভাই ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম, শরীরতপুরের মেসার্স শামীম ট্রেডার্স ও শরীয়তপুরের তন্ময় এন্টারপ্রাইজের নামে কুষ্টিয়া সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এন আই এক্টের ১৩৮ ধারায় ভিন্ন ভিন্ন তারিখে পৃথক ভাবে ভাই ভাই ট্রেডার্সের নামে সি আর ৬৮১/২০২০, শরীয়তপুরের শামীম ট্রেডার্সের নামে সি আর ১০৭/২০২০ নম্বরে তিনজনের ৩৯ লক্ষ টাকার মামলা করেন। উল্লেখ্য শরীয়তপুরের শামীম ট্রেডার্সের মালিক উক্ত জেলার সেরা করদাতা হিসাবে বেশ কয়েকবার নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে মামলা উত্তোলন ও মিমাংসা করার জন্য শরীয়তপুরের অন্যতম ব্যবসায়ী খান এন্টারপ্রাইজের মালিক সোহেল খান বিবাদী তিন জনের পক্ষ হয়ে মধ্যস্থততাকারী হিসাবে গত ১৭/০৮/২০২০ তারিখে বাদী আলাউদ্দিনের বাড়িতে ভিডিও, ছবি ও ব্যবসায়িক প্যাডে লিখিত দিয়ে সাক্ষী সোহেল রানা, আলাউদ্দিনের ছেলে আল মোহাইমেন ও আলমগীরের উপস্থিতিতে বিষয়টি মিমাংসা হয়। উক্ত আলোচনায় স্বাক্ষীগণের উপস্থিতিতে ৩৯ লক্ষ টাকার বিপরীতে নগদ ২০ লক্ষ টাকা প্রদান করেন ও অবশিষ্ট ১৯ লক্ষ টাকা পরে প্রদান করার জন্য একটি চেক প্রদান করা হবে মর্মে উভয় পক্ষের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয়। মিমাংসার উক্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিবাদীদের নিকট থেকে নগদ ২০ লক্ষ টাকা ও ১৯ লক্ষ টাকার একটি চেক গ্রহণ করে। উক্ত মিমাংসার সিদ্ধান্ত মেনে নগদ টাকা গ্রহণ ও আপন ট্রেডার্সের প্যডে আলাউদ্দিনের দেয়া মুচলেকার একটি ভিডিও ক্লিপ ও তার ব্যবসায়িক প্যাডে মুচলেকার কপি ইতিমধ্যে আমাদের হাতে এসেছে। উক্ত মুচলেকার কপিতে লিখা আছে আগামী ২০/০৮/২০২০ তারিখে চেক ফেরত দিবেন বাদী।
উক্ত অর্থ পাওয়ার পর বাদী শরীয়তপুরের তন্ময় এন্টারপ্রাইজের নামের মামলা উত্তোলন করে নিয়ে তার চেকটি ফেরত দেন। অথচ নগদ টাকা ও অবশিষ্ট পাওনার চেক নিয়েও ভাই ভাই ট্রেডার্স ও মেসার্স শামীম ট্রেডার্সের নামে দায়েরকৃত মামলা উত্তোলন না করে নতুন করে মিমাংসাকারী শরীয়তপুরের অন্যতম ব্যবসায়ী খান এন্টারপ্রাইজের মালিক সোহেল খানের নামে ১৯ লক্ষ টাকার আরো একটি মামলা দায়ের করের মামলাবাজ ও প্রতারক আলাউদ্দিন।
এদিকে আলাউদ্দিনের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি একজন বড় মাপের মামলাবাজ ও প্রতারক। তার কাজই মামলা মোকদ্দমা করে ব্যবসায়ীদের হয়রানী করা এবং ফাঁদে ফেলে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেয়া। বর্তমানে প্রতারক আলাউদ্দিনের তেমন কোনো ব্যবসা নেই। এভাবেই তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে মামলাবাজ ও প্রতারক আলাউদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নাই। বিবাদীগন বিজ্ঞ আদালতের নিকট সবিনয় প্রার্থনা জানিয়ে বলেন, বিষয়টি আমলে নিয়ে অতি দ্রুত মামলাবাজ প্রতারক আলাউদ্দিনের প্রতারণা বন্ধ করা দরকার।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়