কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নারী নেত্রীর অভিযোগ

কে এম শাহীন রেজা কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১৩৫ বার পঠিত

 

কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ শেখ চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি চেষ্টা, দফায় দফায় কুপ্রস্তাব ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন এক তরুণী। তরুণীর অভিযোগ, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার ব্যক্তিগত কিছু ছবি ফেক আইডি খুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই তরুণী। অভিযোগপত্রে আরও তিন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন কুষ্টিয়া শহরের পিয়ারাতলা এলাকার সোহেল রানার ছেলে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ফারদিন সৃষ্টি, জেলা ছাত্রলীগের সদস্য একই এলাকার হৃদয় ও ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ট সহচর মোহাইমিনুল মিরাজ।
অভিযোগকারী তরুণী (১৯) কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। তিনি চলতি বছর কুষ্টিয়ার মিরপুর ছাতিয়ান আব্দুল বাছেত বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অনার্সে ভর্তি হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। অভিযোগপত্রে তরুণী উল্লেখ করেন, কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জের সঙ্গে আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করতাম। একপর্যায়ে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাবসহ শ্লীলতাহানির চেষ্টা করায় প্রায় একমাস আগে তার কাছ থেকে সরে আসি। এরপর থেকে তিনিসহ অন্যান্য বিবাদীরা আমার সঙ্গে রাস্তাঘাটে দেখা হলে বিভিন্ন আজেবাজে কথাবার্তা বলাসহ আমাকে ফলো করতে থাকেন। পরে একটি ফেক আইডি খুলে আমার ছবি এডিট করে বিভিন্ন আজেবাজে কথাবার্তা-সম্বলিত পোস্ট দিতে থাকেন। এ ধরনের কার্যকলাপ করতে নিষেধ করলে বিবাদীরা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, ‘ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকসহ অভিযুক্তরা আমার জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছেন। আমার ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আমার এবং আমার পরিবারের সম্মান চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছেন। আমি তাদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ শেখ চ্যালেঞ্জ বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এখন পর্যন্ত তাকে এ বিষয়ে কেউ কিছু জানাননি। কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান অনিক বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। অভিযোগের বিষয়ে জানতে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেনের অফিসিয়াল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে কুষ্টিয়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ নিয়ে এক তরুণী প্রথমে আমার কাছে আসেন। পরে তিনি ওসি স্যারের সঙ্গে কথা বলেন।’ অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলীয় কোনো বিষয় নিয়ে সম্ভবত তাদের মধ্যে কোনো ঝামেলা হয়ে থাকতে পারে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়