কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের পৃথক অভিযানে ৩ জন আসামী গ্রেফতার

কে এম শাহীন রেজা কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১২৯ বার পঠিত

 

কুষ্টিয়া পুলিশের সফল অভিযানে দুইটি ভিন্ন অভিযানে সর্বমোট ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কুষ্টিয়া পুলিশ। ১৬ তারিখ শুক্রবার বিকেলে জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিং এ পুলিশ সুপার মোঃ খাইরুল আলম এ তথ্য প্রদান করেন ।
তিনি বলেন, কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার বহুলবাড়ীয়া গ্রামের লুৎফুর রহমানের ছেলে নায়েবুর রহমান (২৪) বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক অরাজকতা, ঘৃণা ও শত্রুতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে Facebook নামীয় অনলাইনভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ব্যবহৃত “Md Nayebur Rahman Milon” নামীয় ফেসবুক আইডিতে ইচ্ছাকৃত ও বিদ্বেষমূলকভাবে হিন্দু/সনাতন ধর্মের অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করে লিখিত স্ট্যাটাস দেয়।
উক্ত স্ট্যাটাস এর পরিপ্রেক্ষিতে কুষ্টিয়া আদর্শ পাড়ার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে সজিবুল ইসলাম সজিব বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় নায়েবুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি এজাহার করেন। উক্ত এজাহারের ভিত্তিতে অদ্য ১৬ তারিখ সকাল ০৯:০০ ঘটিকার সময় আসামীর শ্বশুরবাড়ী কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানাধীন মহিষাখোলা গ্রাম থেকে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিট (ডিবি), কুষ্টিয়া এর নেতৃত্বে একটি অভিযানিক দল তাকে গ্রেফতার করে। আসামীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনের ধারায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অপরদিকে গত ১৫ই সেপ্টেম্বর রাত অনুমান ৯ ঘটিকায় কুষ্টিয়া মডেল থানাধীন কুষ্টিয়া টু ভেড়ামারা সড়কস্থ জুগিয়া পাথরগাদি বেঙ্গল এলপিজি ফিলিং ষ্টেশনের উত্তর পাশে পাকা রাস্তার উপর থেকে মিরপুর চারুলিয়া গ্রামের আলাউদ্দিন জোয়াদ্দারের ছেলে আশিকুর রহমান আশিক (২৪) ও পুরাতন কুষ্টিয়া হরিপুরের বজলু হোসেনের ছেলে বিজয় হোসেন (২১) কে চোরাই কৃত রেজিস্ট্রেশন বিহীন আরটিআর মোটরসাইকেল সহ কুষ্টিয়া মডেল থানা এসআই রফিক তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে আটক করেন।
এ সংক্রান্তে কুষ্টিয়া মডেল থানায় এসআই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় ১৬ তারিখে ধারা- ৪১১/৪১৩ পেনাল কোডে মামলা করেন যার নং-৩৮।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব কুষ্টিয়া জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়