কুড়িগ্রামে বাবলু হত্যার প্রতিবাদে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ

নয়ন দাস,কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৩ জুলাই, ২০২২
  • ৪৩ বার পঠিত

 

কুড়িগ্রাম মজিদা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের কর্মী শামীম আশরাফ বাবলুর হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার দুপুরে জেলার প্রতিটি উপজেলায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

জেলা শহরের সরকারি কলেজের সামনে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাঁরা বাবলু হত্যা মামলার আসামি সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান লিটন মিয়াসহ সব আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এ সময় বক্তব্য দেন ছাত্রলীগের কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি শরীফ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান গাদ্দাফি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম, সাধারণ শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক প্রমুখ। একই দাবিতে শহরের ভোকেশনাল মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

এদিকে বাবলু হত্যার বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে জেলার ৯ উপজেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে ছাত্রলীগ। প্রধান সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে ও বিক্ষোভ মিছিল করে নেতা-কর্মীরা।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘বাবলু শুধু ছাত্রলীগ কর্মী ছিলেন না, সে শিক্ষার্থীও ছিল। তাকে একজন ইউপি চেয়ারম্যানের সামনে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’

কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌর শহরের গবা মোড়ে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে উপজেলা ছাত্রলীগ। সমাবেশে বক্তব্য দেন সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা প্রণয় সরকার প্রিতম, রফিকুল ইসলাম রফিক, জাকিউল ইসলাম পিনু, সাকিব হাসান সাদ্দাম, বিশাল সরকার সূর্য, মাহবুবা খাতুন প্রমুখ।

জানা গেছে, বাবলুর বাবার সঙ্গে এক গৃহবধূর সম্পর্কের অভিযোগ এনে গত ২৮ জুন রাতে সালিস করেন বেলগাছা ইউপির চেয়ারম্যান লিটন মিয়া। সালিসে তাঁর পরিবার উপস্থিত না হওয়ায় বাবলুর বাড়িতে ওই গৃহবধূকে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন চেয়ারম্যান ও কয়েকজন ব্যক্তি। এ সময় বাবলুরা ওই নারীকে ঘরে প্রবেশে বাধা দিলে চেয়ারম্যানের নির্দেশে তাঁদের ওপর হামলা হয়। ফলে মাথায় ও বুকে আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন বাবলু। গত বুধবার তিনি মারা যান।

ওই ঘটনায় বাবলুর বড় ভাই মশিউর রহমান বাবু বাদী হয়ে বেলগাছা ইউপি চেয়ারম্যান লিটন মিয়াসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ-সাতজনের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম সদর থানায় বুধবার মামলা করেন। এ ঘটনায় গৃহবধূকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়