কুড়িগ্রামে মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও অষ্টকালীন লীলা কীর্ত্তন অনুষ্ঠিত

নয়ন দাস,কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২২
  • ২৩৪ বার পঠিত

বিশ্বের সকল জীবের শান্তি ও কল্যাণ কামনায় কুড়িগ্রাম জেলার সোবনদহ দাসপাড়া,স্বর্গীয় পুলিন চন্দ্র মহাশয়ের বাহির অঙ্গন,ষোগাদহ,কুড়িগ্রাম।বিশ্বশান্তি কল্পে অষ্টপ্রহরব্যাপী।হরিনাম সংকীর্তন ও অষ্টকালীন লীলা কীর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজিত ৪ দিনব্যাপী পরিবেশন করা হয় হরিনাম সংকীর্তন ও অষ্টকালীন লীলা কীর্তন।

 

এতে অংশ গ্রহণ করেন,নীলা কীর্ত্তন পরিবেশনায়:”দেবাশীষ মিত্র” উত্তর-২৪পরশুনা,কলকাতা,ভারত।”শ্রীমতি রত্না রানী”শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ সম্প্রদায়,বড়বাড়ী, লালমনিরহাট।”স্বরুপা নন্দ দাস”গোপাল কৃষ্ণ সম্প্রদায়,সাতক্ষীরা।অধিবাস কীর্ত্তন পরিবেশনায়:গৌর নিতাই সম্প্রদায়,শ্রী নিরাঞ্জন চন্দ্র দাস,নুনখাওয়া,নাগেশ্বরী।বিভাস পরিবেশনায়: রাধাকৃষ্ণ সম্প্রদায়,শ্রী বলাই চন্দ্র সরকার,ষোগাদহ।

 

রাস পরিবেশনায়:রাধেশ্যাম সম্প্রদায়:শ্রী শীষ কান্তকান্ত দাস,কচাকাটা।নাম কীত্তন পরিবেশনায়:স্হায়ী দলসমূহ,ভক্তের পদধূলি কামনায়:মঙ্গারাম হাওলাদার,শ্রী নীরেন্দ্র নাথ সরকার। বৃহস্পতিবার পরিবেশন করা হয় লীলা কীত্তন।পরিবেশনায়:”দেবাশীষ মিত্র” উত্তর-২৪পরশুনা,কলকাতা,ভারত।”শ্রীমতি রত্না রানী”শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ সম্প্রদায়,বড়বাড়ী, লালমনিরহাট।”স্বরুপা নন্দ দাস”গোপাল কৃষ্ণ সম্প্রদায়,সাতক্ষীরা।”অনুষ্ঠান সূচি : “অধিবাস : ২৬ পৌষ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ(১১ জানুয়ারি ২০২২ খ্রীঃ)মঙ্গলবার।

 

“নামযজ্ঞ:২৭ পৌষ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ(১২ জানুয়ারি ২০২২ খ্রীঃ)বুধবার।”অষ্টকালীন:২৮ পৌষ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ(১৩ জানুয়ারি ২০২২ খ্রীঃ)বৃহস্পতিবার।”মহন্ত বিদায়:২৯ পৌষ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ(১৪ জানুয়ারি ২০২২ খ্রীঃ)শুক্রবার।গীতা পাঠ ও ধর্মীয় আলোচনায়:শ্রী রাজেন্দ্রনাথ ও শ্রী ফুলকুমার চন্দ্র। অনুষ্ঠানের”প্রধান অতিথি ছিলেন,মোঃ জাফর আলী,সাবেক এমপি ও চেয়ারম্যান,জেলা পরিষদ, কুড়িগ্রাম।” বিশেষ অতিথি ছিলেন,মোঃ আমান উদ্দিন আহমেদ (মঞ্জু),চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ কুড়িগ্রাম।সাধারণ সম্পাদক,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ,কুড়িগ্রাম জেলা।আরও উপস্থিত ছিলেন,রবি বোস,সভাপতি বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুড়িগ্রাম জেলা শাখা।

 

মোঃ আব্দুল মালেক,নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান,ঘোগাদহ ইউপি।মোঃ আব্দুল বাতেন সরকার,নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান,পাঁচগাছী ইউপি।এটিএম হুসেনুল করিম(শ্যানন,)সভাপতি,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ,ষোগাদহ শাখা।”সার্বিক সহযোগিতা:মোঃ শাহআলম মিয়া,সাধারণ সম্পাদক,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ,ষোগাদহ ইউনিয়ন শাখা ও সাবেক চেয়ারম্যান ষোগাদহ ইউপি।”আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ:মোঃ তাইজুল মাষ্টার,নব নির্বাচিত ইউপি সদস্য, ষোগাদহ।শ্রীঃ অতুল চন্দ্র দাস,ষোগাদহ।”উপদেষ্টা মন্ডলী:শ্রী দিলীপ কুমার সরকার, অবঃপ্রাপ্ত স্বাস্হ্য পরিদর্শক।শ্রী মহিম দাস (বৈরাগী)সোবনদহ,প্রমুখ। অনুষ্ঠানের নেতৃবৃন্দরা:(সভাপতি)শ্রী অনিল চন্দ্র সরকার,পি.সি. ফার্মেসী।(সহ-সভাপতি)শ্রী যুগল চন্দ্র দাস,(সাধারণ সম্পাদক)শ্রী হরকুমার চন্দ্র দাস,(সহঃসম্পাদক)শ্রী নিপু চন্দ্র দাস,(কোষাধ্যক্ষ)শ্রী মুকুল চন্দ্র দাস,শ্রী নকুল চন্দ্র হওলাদার।”আয়োজনে:সোবনদহ এলাকাবাসী।

এ ধর্মানুষ্ঠানে হিন্দু ধর্মালম্বীসহ জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সকল বয়সের শতশত লোকের সমাগম ঘটে। কীর্তনের সময় যতই শেষ হয়ে আসে ততই বাড়তে থাকে ভক্ত ও দর্শকদের সংখ্যা। ভক্তদের ভিড়ে কানায় কানায় জমে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গন।এটাই সনাতন ধর্মের সার সিদ্ধান্ত।আয়োজকরা জানান, কালীযুগে জীবের দু;খ মোচন ও শান্তি অর্জনের একমাত্র উপায় হরিনাম সংকীর্তন।

 

এটাই সনাতন ধর্মের সার সিদ্ধান্ত। তাই কলির কড়াল গ্রাস থেকে নিষ্কৃতি লাভ করতে ভগবানের অনন্ত প্রেমের অভিপ্লাপ্ত আকুল বাসনায় প্রতি বছরের মতো এবারো সোবনদহ দাসপাড়া,স্বর্গীয় পুলিন চন্দ্র মহাশয়ের বাহির অঙ্গন,ষোগাদহ,কুড়িগ্রাম।৩২ প্রহরব্যাপী শ্রী শ্রী মহানামযজ্ঞানুষ্ঠান, অষ্টকালীন লীলা কীর্তন ও মহাপ্রসাদের আয়োজন করা হয়।এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়