কুড়িগ্রামে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ নতুন দিবস পালিত

 নয়ন দাস,কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৯ মার্চ, ২০২২
  • ৪৯ বার পঠিত

কুড়িগ্রামে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো শহীদ নতুন দিবস। শনিবার সকালে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা এলাকায় শহীদ রেজাউল করিম নতুনের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

 

পরে তার সমাধি প্রাঙ্গনে স্বরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন, কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ জাফর আলী, কুড়িগ্রাম জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম হারুন অর রশীদ লাল, কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও দৈনিক কুড়িগ্রাম খবর পত্রিকার সম্পাদক এস এম ছানালাল বকসী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মোগলবাসা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদ নতুন এর মামা মোঃ ইমদাদুল হক এমদাদ, কুড়িগ্রাম পৌরসভার মেয়র মোঃ কাজিউল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা অলক সরকার, মোঃ মাজেদ আলী, কুড়িগ্রাম জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক সাবেক ছাত্র নেতা আনিছুর রহমান খন্দকার চাঁদ, মোগলবাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ এনামুল হক, প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শহীদ নতুনের মামা ও বিএ ডিসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী (অব) এটিএম আমিনুল ইসলাম। উল্লেখ্য, কুড়িগ্রাম জেলার প্রথম রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের শিকার শহীদ নতুনের ৩৫তম মৃত্যু বার্ষিকী।

 

১৯৮৭ সালের ১৯ মার্চ দশম শ্রেণির ছাত্র মোঃ রেজাউল করিম নতুন-কে প্রকাশ্য দিবালোকে জামাত-শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডাররা নির্মম ভাবে হত্যা করে। বন্দুকের বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতকরা। সেদিন ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে তখনকার ছাত্র জনতা কুড়িগ্রাম জেলার প্রথম রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের শিকার নতুন হত্যার প্রতিবাদে মাঠে নেমেছিলো।

 

 

নতুন হত্যার বিচারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছিল ছাত্র জনতা। প্রতিবছর বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে শহীদ নতুনের মৃত্যুর দিনটিকে স্বরণ করে শহীদ নতুন পরিষদ, আশির দশকের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ,জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, জাসদ, বাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, কুড়িগ্রাম জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুড়িগ্রাম জেলার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়