কুড়িগ্রাম উত্তরবঙ্গ জাদুঘরের উদ্বোধন করলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

নয়ন দাসকুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ জুন, ২০২১
  • ৩৫ বার পঠিত

 

কুড়িগ্রামের উত্তরবঙ্গ জাদুঘরের নিজস্ব ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম মোজাম্মেল হক-এমপি।

উত্তরবঙ্গ জাদুঘরের আয়োজনে বুধবার বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজের উদ্বোধন করেন তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম,পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা,বীরপ্রতিক আব্দুল হাই সরকার,কুড়িগ্রাম এলজিইড নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান,কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ মিজার্ নাসির উদ্দিন, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি অ্যাড.আহসান হাবীব নীলু,উত্তবঙ্গ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা পিপি অ্যাড. এসএম আব্রাহাম লিংকন প্রমুখ।

মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থান সমূহ সংরক্ষণ ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় তিন তলা বিশিষ্ট ভবনে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দু’কোটি ১৫লাখ ৬৯হাজার টাকা। স্থাণীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এক বছর মেয়াদি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

উত্তরবঙ্গ জাদুঘর ২০শতক জমিতে ৭হাজার ৩৩২ বর্গফুটের এই ভবনে সুবিধা থাকবে পানির ঝড়না,লাইব্রেরি কাম ক্যাফেটেরিয়া, জাদুঘর অফিস, সেমিনার হল, ওপেন থিয়েটার, সূর্যালোকের সলিড ছাদ পর্যন্ত, প্রতিবন্ধিদের দর্শনের জন্য র‍্যাম্প,গোলাকার দৃষ্টিনন্দন আর্চ।

কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার নতুন শহরের নাজিরা ব্যাপারি পাড়ায় নিজ বাড়িতে জাদুঘরটি ২০২১সালে ১২এপ্রিল প্রতিষ্ঠা করেন আইনজীবী এসএম আব্রাহাম লিংকন।

তার দ্বি-তল বাস ভবনের বসার ঘর,খাবারের ঘর, সেরেস্তা ঘর এমনকি শোবার ঘরেও সাজিয়ে রাখা হয়েছে স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মারকের দুই হাজারের বেশি প্রামাণ্য দলিল ও নানা উপকরণ।

জাদুঘরটি দেখতে পদস্থ কর্মকর্তাসহ দেশ ও বিদেশের অনেক গুণী ব্যক্তি এসেছেন বিভিন্ন সময়ে। দীর্ঘ ৯ বছর পর জাদুঘরটি নিজস্ব ঠিকানায় যাচ্ছে। জমিটি দান করেছেন প্রতিষ্ঠাতা নিজেই।

এর নকশা করেছেন ঢাকার ‘নকশা বিদ’ নামে একটি ফার্মের পক্ষে প্রকৌশলী বায়েজীদ মাহবুব খন্দকার। জাদুঘরটিতে রয়েছে বৃহত্তর রংপুর জেলার পাঁচ হাজার ৮৬৫জন রাজাকারের তালিকা।

তাদের ক্ষমা প্রার্থনার দলিল, শান্তি কমিটির সদস্যদের তালিকা, রৌমারী রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত কিছু ডামি রাইফেল, ভূরুঙ্গামারী রণাঙ্গনে পাকিস্তানি বাহিনীর ছোঁড়া বিস্ফোরিত মর্টার শেল, গ্রেনেডসহ গোলার বাক্স এবং নানা দলিল পত্র।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়