কোভিড-১৯’র ক্ষত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে কুষ্টিয়ার শিল্প মালিক ও উদ্যোক্তারা

কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২০ অক্টোবর, ২০২১
  • ২০২ বার পঠিত

কোভিড-১৯ ভাইরাস। যা জীবন ও জীবিকাকে থমকে দিয়েছিল। করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে ইতিহাসের কঠিনতম অর্থনৈতিক মন্দা পার করলো বাংলাদেশ। দেশের অর্থনীতির এমন কোনো খাত নেই যা আক্রান্ত হয়নি। উক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান কেএনবি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড তারও অর্থনীতির চাকা থমকে গিয়েছিল। বিসিক শিল্পনগরীতে গড়ে উঠেছে পশু খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কেএনবি এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ লি: করোনা মহামারিতে পোল্টি শিল্পে ধ্বস নেমে অর্থনীতিকে চরমভাবে প্রভাব ফেলেছে। যা কাটিয়ে উঠতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করেন প্রতিষ্টানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান নাসির। তিনি বলেন, ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

পোল্টি সেক্টরের অনেক দ্রব্যই আমদানি করতে হয়। প্রত্যেকটি দ্রব্য আমদানিতে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ব্যয় বেড়েছে। বিশেষকরে বিশ্বব্যাপী কন্ট্রেইনার সংকট ব্যয় ৩ গুন বেশি বাড়িয়েছে। এ খাতে ক্ষতির পরিমান বিবেচনা করে সরকারের এক বছরের প্রণোদনার মেয়াদ বাড়িযে আড়াই বছর করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরো বলেন, আমার শিল্প কারখানাতে করোনাকালীন সময়ে যে ক্ষতি হয়েছে তা আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ যথেষ্ট নয়। তবে এতো প্রতিকুলতার মধ্যেও আমরা কোন শ্রমিক ছাটাই করিনি।

 

শিল্প কারখানার মিল মালিক ও ছোটখাটো ব্যবসায়ীদেরকে বাঁচাতে সরকারকে আরো প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে যেন সকল শিল্প কারখানার মালিক ও ছোটখাটো ব্যবসায়ীরা আবারও উঠে দাঁড়াতে পারে। সেইসাথে দেশের অর্থনীতি চাকাকে সচল করতে পারে। সরেজমিনে দেখা গেছে করোণা মহামারীর ঐ দুঃসময়ে কেএনবি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান নাসির তার শিল্প কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি বসে থাকেননি ছুটে বেড়িয়েছেন করোণা রোগীদের সেবায়। প্রতিনিয়ত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে খাবার বিতরণ করেছেন, অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করেছেন এমন কোনো দিন নেই যে তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেননি। পথশিশু থেকে শুরু করে অসহায় দরিদ্রদের মাঝে নিয়মিত খাবার বিতরণ করে চলেছেন। লকডাউনে হোটেল রেস্তোরা বন্ধ থাকায় পশুরা না খেয়ে দিনযাপন করছিল সেসময় তিনি পশুদেরকেও প্রতি রাত্রে তিনি ও তাঁর সহধর্মিনী চামেলি জামানকে সাথে নিয়ে নিজ হাতে খাবার বিতরণ করেছেন। সুত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া শহরের অদূরে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক সংলগ্ন কুমারগাড়া এলাকায় ১৮ দশমিক ৪৯ একর জমির ওপর রয়েছে কুষ্টিয়া বিসিক শিল্পনগর। ৮৪টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয় উদ্যোক্তাদের।

 

পর্যায়ক্রমে ছোট-বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। কিন্তু নানা প্রতিকূলতায় টিকে থাকতে না পেরে অধিকাংশই ব্যবসা গুটিয়ে নেয়। কুষ্টিয়া বিসিকে ১০ দশমিক ২২ একর জায়গায় বিআরবি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এতে দশ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখা লাভজনক এ প্রতিষ্ঠানটি করোনা মহামারিতে হোচট খেলেও তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলেও শুরুতে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় নিজেকে রক্ষায় এবং এই ভাইরাস ছড়িয়ে পরা ঠেকাতে লক ডাউন দেওয়া হয়। লক ডাউনের সময় বন্ধ থাকে কেএনবি সহ সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান। থমকে দাঁড়ায় বিশ্ব অর্থনীতি। কারণ আমদানি রপ্তানিসহ দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থগিত থাকে। করোনা অতিমাত্রার কারণে অন্যসব খাতের সাথে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে শিল্প বাণিজ্য। সারা বিশ্বেই এই খাত করোনার কারণে বিপর্যস্থ হয়। করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে প্রায় সব দেশই লক ডাউনের পথে হাঁটে। সেই সময় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে। এদিকে দেশের অর্থনীতি থমকে দাঁড়ালেও সব শ্রেণির মানুষের কর্মস্পৃহা ও সরকারের চেষ্টায় দ্রুততম সময়েই আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের অর্থনীতি। যদিও এ সময়ের মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে গেছে দারিদ্র্যের হার।

 

 

কর্মহীন হয়ে পড়েছে বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠী। কুষ্টিয়ার শিল্প খাতে নেমে এসেছিল স্থবিরতা। বড় বড় শিল্পের মালিক থেকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এখনো ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তবে বর্তমান সময়ে করোনার সহায়ক অবস্থানে থাকায় পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে কুষ্টিয়ার শিল্প মালিক থেকে উদ্যোক্তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছে, তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ অর্থনীতির সংকট সামলাতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। তবে বিশ্বমন্দার এই সময়ে স্থবির হয়ে পড়া ব্যবসা-বাণিজ্য আগামী দিনগুলোতে অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান তৈরি করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন তারা। এবং সে পথেই হাটছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়