কোভিড-১৯’র সময়ের জামানত বাজেয়াপ্ত করাচ্ছে কুষ্টিয়া ভিসি ফুড

কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলার প্রতিনিধি।।
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২১
  • ১৫৬ বার পঠিত

বৈশ্বিক করোণা মহামারীর দুঃসময়ে চাল সরবরাহ করেও দুই বছর অতিবাহিত হলেও কুষ্টিয়ার চালকল মিল মালিকদের জামানতের কোটি কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করাচ্ছেন ডিসি ফুড। এতে ব্যাপক লোকসানের মধ্যে পড়েছে মিল মালিকরা। যে কারণে ব্যাংকের দেনা পরিশোধও করতে পারছেন না তারা। বিষয়টি নিয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের কর্মকর্তা এস এম তাহসিনুল হক এর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করলেও তার কোনো সুরাহা করেননি ঐ কর্মকর্তা।

 

বিষয়টি নিয়ে মিল মালিকরা ফুঁসে উঠেছেন ফুড অফিসের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে তাদের জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে ওই অসাধু কর্মকর্তা। এদিকে ঐসকল মিল মালিকরা ডিসি ফুড অফিসের অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বলেন, করোনাকালীন সময়ে অনেকেই ইরি বোরো ধানের চাল সরবরাহ করেছে, কিন্তু আংশিক ব্যক্তিরা চাল সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয় শুধুমাত্র দেশের বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে। কিন্তু ওই অসাধু অর্থ পিপাসু কর্মকর্তা ডিসি ফুড অনৈতিক সুবিধা নিয়ে কিছু ব্যক্তিদের জামানতের অর্থ ফেরত দিয়েছেন। অন্যদিকে খাদ্য বিভাগ জানায়, ২০২০ সালের বোরো সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর জেলার ৫৮০ জন মিল মালিক সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেন। এর মধ্যে মাত্র ১৬০ জন চাল দেন।

বাকি ৪৬০ জন চাল দিতে ব্যর্থ হন। খাদ্য বিভাগ আরও জানায়, ১৬০ মিল মালিক চাল দেওয়ায় তাদের জামানত ফেরত দেওয়া হয়েছে। বাকি ৪৬০ জনের কেউ চালই দেননি। তাদের প্রায় দেড় কোটি টাকার কাছাকাছি জামানত আটকে আছে। এর মধ্যে যেসব মিল মালিক চুক্তির বিপরীতে ৫০ ভাগ ও ২৫ ভাগ চাল দিয়েছেন, তাদের আংশিক জামানত ফেরত দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ফুড গোডাউনের শ্রমিকরাও দীর্ঘ আট মাস বেতন পান না। তারা অভিযোগের তীর শুড়েছেন ডিসি ফুডের উপর। ঐ সকল শ্রমিকরা বলেন, ইতিপূর্বে ঠিকাদারদের মাধ্যমে আমরা বেতন পেতাম কিন্তু জেলা ডিসি ফুড নিজেই দায়িত্ব নিয়ে আমাদের বেতন দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আমরা দীর্ঘ আট মাস বেতন পাচ্ছি না। বর্তমানে আমরা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন যাপন করছি।

 

হাজি লিয়াকত আলী নামে এক মিল মালিক জানান, করোণা কালীন সময়ে লোকসানের কারণে চাল দিতে পারেননি তারা। আবার কোটি টাকার ওপর জামানত আটকে আছে মিল মালিকদের। ডিসি ফুড অফিসের মাধ্যমে সরকারের উচিত টাকা ফেরত দেওয়া। অনেক মিল মালিকের ব্যাংকে লোন রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন মিল মালিক প্রতিবেদককে জানান, যে সকল মিল মালিকদের অর্থ ফেরত দেয়া হয়েছে, তাদের কাছ থেকে ডিসি ফুড নিয়েছে অনৈতিক সুবিধা। মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন বলেন, কয়েক বছর ধরে মিল মালিকরা ফুড অফিসে চাল সরবরাহ করতে গিয়ে লোকসানের ঘানি টানতে হচ্ছে। তার ওপর করোনাকালীন সময়ের দুর্যোগ মুহূর্তের জামানত আটকে রাখা হয়েছে।

 

এখন শুনছি এ অর্থ আর ফেরত দেওয়া হবে না। এতে সমস্যায় পড়বেন অনেক মিল মালিক। জেলা খাদ্য কর্মকর্তা তাহসিনুল হক বলেন, যারা চাল দিতে পারেনি তাদের জামানত আর ফেরত দেওয়া হবে না। পুরোপুরি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশনা রয়েছে। মিল মালিকদের বিষয়টি নিয়ে নতুন কোনো নির্দেশনা নেই। তাই জামানতের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়