গাংনীর ভবানীপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি’র বিরুদ্ধে মহিলাকে শ্লীলতাহানির অপচেষ্টার অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১
  • ৪৯৩ বার পঠিত

 

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপির বিরুদ্ধে মহিলাকে শ্লীলতাহানির অপচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গতকাল রবিবার (১৪ নভেম্বর), দুপুরের দিকে উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত ভবানীপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে এঘটনা ঘটে। ঘটনা গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে অবস্থা বেগতিক দেখে ডাক্তার আমিরুল ইসলাম কৌশলে পালিয়ে যায়।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ভবানীপুর গ্রামের এক গৃহবধূ শ্যামলী যিনার বাবার বাড়ি রামনগর এবং শ্বশুর বাড়ি ভবানীপুর। তিনি ভবানীপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে সবুজের স্ত্রী বলে জানা যায়।

গ্রামবাসীরা জানান, শ্যামলী তার অসুস্থ্য শিশুকে নিয়ে বাড়ির অদূরে ক্লিনিকে ওষুধ নিতে গেলে একা পেয়ে দরজা বন্ধ করে সিএইচসিপি আমিরুল ইসলাম শিশুর ওষুধ না দিয়ে মা শ্যামলীকে ষ্ট্যাথিষ্কোপ দিয়ে পরীক্ষা শুরু করে। মহিলার হার্টে সমস্যা রয়েছে বলে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখায়।

এক পর্যায়ে নারীলোভী কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসক গৃহবধূর গোপনাঙ্গে এবং স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। গৃহবধূ শ্যামলী খাতুন ডাক্তারের ব্যবহারে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও ডাক্তার ভয়ভীতি দেখায় পরবর্তীতে শ্যামলী খাতুন বাড়ি গিয়ে তার স্বামী সবুজকে ঘটনা জানায়।

সরেজমিনে ঘুরে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ভবানীপুর গ্রামের ফকিরপাড়ার দিনমজুর সবুজ আলীর স্ত্রী ২ সন্তানের জননী শ্যামলী খাতুন জানায়, দুপুরে কমিউনিটি ক্লিনিকে শিশুর জন্য ওষুধ আনতে গেলে ক্লিনিকের সিএইচসিপি আমিরুল ইসলাম শরীর পরীক্ষার নামে গোপনাঙ্গে হাত দেয়।

সে আরও জানায়, ৩/৪ মাস আগেও ঐ ডাক্তার রুপী শয়তান শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। গ্রামের একাধিক পরিবারের মহিলারা একই অভিযোগ উপস্থাপন করেন।

গ্রামের একাধিক সুত্রে আরও জানা গেছে, কাজীপুরের ক্লিনিকে থাকতেও তার বিরুদ্ধে নানাভাবে নারী কেলেংকারীর অভিযোগ রয়েছে। এরকম চরিত্রহীন লোক ক্লিনিকে থাকলে কেউ ক্লিনিকে যাবে না। তাই অবিলম্বে লম্পট আমিরুল ইসলামকে অপসারণের দাবি তুলেছে গ্রামবাসি।

এনিয়ে গ্রামের জন প্রতিনিধি রেজাউল হক জানান, আমাদের কাছে মাঝে মধ্যে এরকম অভিযোগ আসে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এর আগেও নিষেধ করেছি। এ ব্যাপারে সঠিক তদন্তকরে বিচার হওয়া দরকার।

এবিষয়ে অভিযুক্ত সিএইচসিপি গাংনী উপজেলার বেত বাড়িয়া গ্রামের আমিরুল ইসলামের সাথে ফোনে কথা বলা হলে সে প্রথমত অস্বীকার করেন। তিনি বলেন এঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি ওষুধ দিতে পারিনি বলে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে এবং পরে কথা বলছি বলে ফোন কেটে দেয়।

এব্যাপারে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শাওনকে জানানো হলে তিনি কিছু করতে পারবেন না বলে জানান। অবশেষে তিনি থানায় লিখিত ভাবে অভিযোগ দিতে পরামর্শ দেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর