গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২০
  • ৯১৪ বার পঠিত

গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের দ্বি বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় উপজেলা প্রেসক্লাবে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সাধারন সম্পাদক পদে নুরুজ্জামান পাভেল ও যুগ্ন সাধারন সম্পাদক পদে রাকিবুল ইসলাম কবি নির্বাচিত হয়েছে। এছাড়া সভাপতি সহ অন্যান্য পদে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হয়।


নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য জুলফিকার আলী কানন জানান,সভাপতি সহ ৫টি পদে কোন প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হয়। এছাড়া সাধারন সম্পাদক ও যুগ্ন সম্পাদক পদে দুজন করে ৪জন প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহনের কথা থাকলেও ১৮ জন ভোটার সকাল ১১ টার মধ্যে ভোট প্রদান করায় ফলাফল ঘোষনা করা হয়। সাধারন সম্পাদক পদে সর্বাধিক ১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন নুরুজ্জামান পাভেল আর ৬ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন মিনারুল ইসলাম। অপরদিকে যুগ্ন সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম কবি ১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে আর ৮ ভোট পেয়ে জাহিদ মাহমুদ পরজিত হয়েছে।


নির্বাচন চলাকালে আমন্ত্রিত অতিথী হিসেবে নির্বাচন পর্যক্ষেন করেন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন,উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ খালেক,গাংনী থানার ওসি মো: ওবাইদুর রহমান,গাংনী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক গোলাম মোস্তফা,আওয়ামীলীগ নেত্রী নুরজাহান বেগম, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আনারুল ইসলাম বাবু,যুবলীগ সভাপতি মোশাররফ হোসেন,ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন,ধানখোলা ইউপি চেয়ারম্যান আখেরুজ্জামান,সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন,আওয়ামীলীগ নেতা মনিরুজ্জামান মনি মাস্টার,পৌর কাউন্সিলর নবীর উদ্দীন,আওয়ামীলীগ নেতা মনিরুজ্জামান আতু,জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সাহিদুজ্জামান শিপু ও সাবেক ছাত্র নেতা আব্দুর রকিব মাস্টার সহ সরকারী কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া গাংনী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক তৌহিদ দৌলা রেজা,রাফিকুল ইসলাম,বাবু ও প্রেস হাউজের পক্ষে এ সিদ্দিকী শাহিন আমন্ত্রিত অতিথী হিসেবে নির্বাচন পর্যক্ষেন করেন।
এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে সকাল থেকে প্রেসক্লাব চত্তরে গাংনী থানা পুলিশের চৌকশ একটি দল সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। আবুল কাশেম নির্বাচন কমিশনার ও রকিবুল ইসলাম রকি প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। পরে সম্মানিত অতিথি সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন ও উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ খালেক ভোটের ফলাফল ঘোষনা করেন।


নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য আবুল কাশেম জানান, নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে শান্তিপূর্ন পরিবেশে গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ১৮ জন ভোটার ভোট প্রদান করেন। নব নির্বাচত গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের পূর্নাঙ্গ কমিটি : সভাপতি আমিরুল ইসলাম অল্ডাম,সহ সভাপতি সাহাজুল ইসলাম সাজু,সাধারন সম্পাদক নুরুজ্জামান পাভেল,যুগ্নসাধারন সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম কবি,সাংগঠনিক সম্পাদক লিটন মাহমুদ,সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল,অর্থ সম্পাদক মাসুদ রানা,প্রচার সম্পাদক রাব্বি,দপ্তর সম্পাদক মিয়াদুল। নির্বাচিত কমিটির সকল সদস্যদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধি,রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের কর্মী,সাংবাদিক ও সরকারী কর্মকর্তা বৃন্দ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়