গাংনী পৌরমেয়রের বিরুদ্ধে চাকুরী দেবার নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নারীর।

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২০
  • ৫৭০ বার পঠিত

গাংনী পৌরমেয়রের বিরুদ্ধে চাকুরী দেবার নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নারীর।

তারেক,মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কয়েকদিন আগে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে চাউল পট্টি এলাকায় সরকারি বিধি না মেনে ভবন নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়ে যায়।
এবার পৌরসভায় আদায়কারি পদে নিয়োগ দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন এক নারী। ঐ নারী পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড শিশিরপাড়া মাঠ পাড়া এলাকার বাসিন্দা ও বাহাদুর আলির মেয়ে মৌমিতা খাতুন।
ভুক্তোভোগি মৌমিতা খাতুন টাকা আদায়ের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২০আগষ্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে শহীদ মিনারে অনশনে বসে এবং মেয়র আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগের কথা জানায়।
মৌমিতা খাতুন বলেন, গত ২০১৭ ইং তারিখে পৌরসভায় আদায়কারি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে মেয়র আশরাফুল ইসলাম ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করে।
সে সময় আমাদের জামি-জমা বন্ধক রেখে তাকে টাকা দিতে থাকেন বলে জানান ভুক্তোভোগি মৌমিতা খাতুন। ২০১৭ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মেয়র ও মেয়রের স্ত্রী শাহানা ইসলাম শান্তনাকে বিভিন্ন সময় মোট ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে টাকা দেওয়ার পরও ভুক্তোভোগি মৌমিতাকে চাকুরি না দিয়ে অন্য একজনকে আদায়কারি হিসেবে নিয়োগ দেয় বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
ভুক্তোভোগি মৌমিতা আরও জানান, চাকুরির দাবিতে মেয়রের কাছে গেলে সে আমাকে মাষ্টার রোলে কাজ করতে বলে এবং পরে চাকুরি স্থায়ী করা হবে বলে আশ্বাস দেয়। মাষ্টার রোলে চাকুরি করার তিন বছর চলাকালে মেয়রকে স্থায়ীকরণের কথা বলতে গেলে তিনি অপেক্ষায় থাকতে বলেন বলে জানান ভুক্তোভোগি মৌমিতা।
এদিকে অপেক্ষায় থাকতে থাকতে পাওয়ানাদাররাও প্রতিদিন টাকার জন্য বাড়িতে এসে টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। পাওয়ানাদারদের চাপের কারণে বাড়িতে থাকাও সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানান ভুক্তোভোগি মৌমিতা।
মৌমিতা বর্তমানে ৫-৬ মাসের অন্তঃসত্তা উল্লেখ করে সাংবাদিকদের জানান, এই অবস্থায় মেয়রের কাছে টাকার কথা বলতে গেলে মেয়র আশরাফুল ইসলাম অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং বলে ‘আমার নামে মামলা করলে টাকা ১০ থেকে ২০ টাকা করে পাবি।’
যখনই টাকার কথা বলা হয় তখনই মেয়র আশরাফুল ইসলাম এভাবে অপদস্ত করে বলে জানান ভুক্তোভোগি মৌমিতা খাতুন।
এদিকে মেয়র আশরাফুল ইসলাম কয়েকজন সাংবাদিককে মোবাইল ফোনে জানান, অভিযোগ যে করেছে সে আমার সাথে জমি ক্রয় করবে বলে মাত্র ৬লক্ষ টাকা দিয়েছে। তাছাড়া কোন টাকা সে দেয়নি।
জানতে চাইলে ভুক্তোভোগি মৌমিতা খাতুন বলেন, মেয়র যে জমির কথা বলছে সেটা ২৮ কাঠা খাস জমি। ঐ জমির উপর আমরা তাকে বছরে ১০ হাজার টাকা করে দেয় না দিলে মেয়র ঐ জমির উপর যেতে দেবেনা।
ভুক্তোভোগি মৌমিতা অনশন ভাঙ্গা প্রসঙ্গে বলেন, ‘টাকা ফেরত না দিলে এই শহীদ মিনারে জীবন দেওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবেনা। আপনারা আমার টাকা ফেরত পাইয়ে দেওয়ার জন্য সহযোগিতা করেন।’

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর