চাপে চাপে দিশেহারা এনজিও কর্মিরা

সুবীর দাস, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১
  • ১৪০ বার পঠিত

এনজিও দের কর্মকান্ডে দিশেহারা খোদ মাঠ পর্যায়ে কাজ করা এনজিও কর্মিরা।ব্রাক,আশা,দাবি
বেডো, রানা আরও অনেক এনজিও কর্মিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিস্তি আদায় করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এনজিও কর্মী বলেন, আমাদের সমস্যার কথা কোথায় জানাবো? সরকার বলে ঘরে থাকতে, প্রতিষ্ঠান বলে ফিল্ডে থাকতে, সদস্য বলে আপনার বিবেক কেমন? আমার বিবেক?? সরকারের কথা শুনলে চাকরি যায়, প্রতিষ্ঠানের কথা শুনলে জীবন ও মাইর খাওয়ার ঝুঁকি।যাই তো কোথায় যায়? উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত ছেলে মেয়েদের এই সুদ খোর প্রতিষ্ঠান গুলো পুতুলের মতো নাচাচ্ছে।
আরেক ভাই বলেন,সংসার চালানোর চাপ ও প্রতিষ্ঠানের চাপে চেপটা জীবন। সুদ খোর প্রতিষ্ঠানের কোন মানবতা নেই। সরকারকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে কর্মীকে ফিল্ডে পাঠাচ্ছে আবার বলেও দিচ্ছে কোন ভাবেই যেন প্রতিষ্ঠানে সুনাম নষ্ট না হয়,প্রতিষ্ঠান এর কোন দায় ভার নিবেনা।
লুকিয়ে লুকিয়ে কালেকশান করতে হবে। যে ভাবেই হোক সদস্যদের চাপ দিয়ে কিস্তি এনে ১০০% আদায় নিশ্চিত করতে হবে।
দেশে এক অসুস্থ পরিবেশ বিরাজ করছে এর মধ্যে এতো চাপ আত্মা হত্যা ছাড়া উপায় দেখছিনা। এখন মনে হয় কেন শিক্ষিত হলাম? নিজের আত্মা সন্মান বির্ষজন দিয়ে আমার পরের গোলামী করছি। নির্জাতনের ও একটা সীমা আছে। এই সুদ খোরেরা সেটা ভুলে গেছে।

তিনি আরও বলেন যে,ভাই যদি করার মতো কোন কাজ থাকতো তাহলে লাথি ও থুথু মেরে এ-ই সুদখোর প্রতিষ্ঠান কে বিদায় জানাতাম কিন্তু উপায় নেই। মেরুদণ্ড হীন ভাবেই এ প্রতিষ্ঠানে গোলামী করতে হবে কর্মের তাগিদে।
কেউ আমাদের কথা ভাবে না।আমার মৃত্যুর পর পরিবার কিছু টাকা পাবে, এখন আপনেই বলেনতো পরিবারের কাছে কার গুরুত্ব বেশি আমার না টাকার।

এটা সত্যি যে যারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করে তাদের লোকডাউনে অবস্থা খারাপ। সরকার এদের দিকে যদি নজর না দেয় তবে দেশে লক্ষ লক্ষ কর্মি বেকার হয়ে যাবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়