ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে চলমান হলো হরিণাকুণ্ডু নবগঙ্গা নদের প্রবাহ

হরিনাকুণ্ডু(ঝিনাইদহ)থেকে রাব্বুল হুসাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ১৫৬ বার পঠিত
বহুদিন প্রতিক্ষার পর অবশেষে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে থামলো হরিণাকুণ্ডু কুমার নদের কান্না।
উপজেলার দৌলতপুর ইউপির রিশখালী, সোনাতপুর, ভূইয়াপাড়া ও ভেড়াখালী গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নবগঙ্গা নদীকে, অবৈধভাবে বাওড়ের অংশ বানিয়ে বিভিন্ন স্থানে বাধ তৈরী করে সার্বজনীন নদকে ব্যক্তি কেন্দীক করায়, নদীর দুই পাড়ের সাধারণ মানুষ,মৎস্যজীবী সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের চাওয়া পূর্ণ করতে ও নদের প্রবাহ অবমূক্ত করা সহ কান্না থামাতে জেলা প্রশাসক মনিরা বেগম, হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বাধ উচ্ছেদের ঘোষনা দিলেন।
উল্লেখ্য ১৯২৬ সালে সি,এস থেকে শুরুকরে এস,এ খতিয়ান সহ সর্বশেষ আর এস রেকর্ডে নদী বলে উল্লেখ আছে, ২০১১ সালের তৎকালীন জেলা প্রশাসকের কাছে জনতা মৎস্যজীবী সমিতি নামে একটি কুচক্রী মহল সকলস্তর মেনেজ করে খাতা কলমে নদীকে বাওড় দেখিয়ে ইজারা নেয়।,এই মৎস্য জীবি সমিতি এখানেই থেমে থাকেনি নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী তৈরি করেছে ঐ সমিতির সদস্য যারা কোন দিনই নদীর পাড়ে যায় না, মাছ ধরাতো দুরের কথা, এদের মধ্যে ,শিক্ষক, ব্যবসায়ী, আবার বড় মাপের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ রয়েছে। তাদের প্রনয়ন হয়েছে স্মার্ট মৎসজীবী কার্ড,এমনকি পাচ্ছেন তারা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা,নদীকে নিজেদের দখলে রেখে সাব লিজের ব্যবস্থা করেছে এই সমিতি, প্রতি মাসে ঘরে বসেই টাকা পাচ্ছে তারা।
ভেড়াখালী, ভুইয়া পাড়া, সোনাতনপুর,এলাকার ২ কিঃমিঃ অংশে চারটি বাধ দিয়েছে তারা ফলে নদের প্রবাহ সংকটে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর ঐ সকল অংশের একধারে প্রায় ১২০ টি ঘরবাড়ি ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে অন্য পাড়ে আবাদি জমির প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
রবিবার বিকাল ৩ টায় জেলা প্রশাসক মনিরা বেগম সরজমিনে নদীটি পরিদর্শন করেন এবং প্রকৃত মৎস্যজীবী সহ সাধারণ মানুষের দুঃখের কথা শোনেন এবং নদীর প্রবাহ অক্ষুণ্ণ রেখে লীজ বাতিল করে দখল মুক্ত করার বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে অঙ্গীকার করেন।
জেলা নবগঙ্গা পরিষদের আহবায়ক সাইফুজ্জান শিমুল বলেন, বছরের পর বছর ধরে এই কুচক্রী মহল নদীকে দখল করে রেখেছে, অনেক আন্দেলন করেও কোন লাভ হয়নি।এসময় উপস্থিত ঝিনাইদহ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রাজিবুল ইসলাম খান পরিদর্শন শেষে জনসাধারণকে বলেন ইতমধ্যে নদী থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনে পক্ষথেকে উদ্যেগ গ্রগণ করা হয়েছে। ইজারা দেওয়া থাকলে তা বাতিল করা হবে।
হরিণাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা নাফিস সুলতানা কুমার নদীকে দখল মুক্ত করার জন্য হরিণাকুন্ডু সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেলিম আহমেদ কে নির্দেশনা প্রদান পূর্বক দখলদারদের সকল প্রকার কাগজ পত্রের তথ্যাদি সংগ্রহ ও জনগণের সুবিধা অসুবিধা সহ মতামত লিখিত আকারে নিতে বলেছেন। এসময় উপস্থিত সাধারণ মানুষ,মৎস্যজীবী সহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের বক্তব্য লিখিত আকারে লিপিবদ্ধ করেন হরিণাকুন্ডু সহকারী কমিশনার (ভুমি) সেলিম আহমেদ।
আরও উপস্থিত ছিলেন হরিণাকুণ্ডু থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রহিম মোল্লা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাফিজ হাসান, জেলা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা,পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর প্রধান।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর