দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে চাউল বিক্রয় নাটক: স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সুমন পলাতক: আটক ১

কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১
  • ১৬৯ বার পঠিত

 

সরকার দলীয় ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবি থানার মনোহরদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে এমপির বরাদ্দকৃত চাউল বিক্রয় করতে গিয়ে মনোহরদিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সুমন উজ্জামান সুমন পলাতক হলেও একজনকে আটক করের ইবি থানা পুলিশ।

সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে জাম জামির বাজার এলাকায় একটি দোকানে কুষ্টিয়া সদর এমপি কর্তৃক প্রদেয় চাউলের বস্তায় অন্য চাউল ভরে বস্তার মুখ সেলাই করে দোকানদার পটলের মাধ্যমে বিক্রি করতে গেলে স্থানীয় জনগণের হাতে নামধারী প্রতারক স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সুমন তাড়া খেয়ে ওখান থেকে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে উক্ত এলাকায় তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সেইসাথে তাকে নিয়ে চলছে গুঞ্জন। বিষয়টি উপর মহলে চলে গেলে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয় সকল নেতাকর্মীরা। এলাকাবাসী বলছে, আগামী ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য এই নোংরা মন-মানসিকতার নেতা সুমন একটি নাটক সাজিয়ে ছিল তা জনসম্মুখে প্রকাশ পেয়েছে। তাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হতে যাচ্ছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসী আরো বলেন, এই সুমন ইতিমধ্যে মনোহরদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

তার এই চাউল বিক্রয় নাটক কুষ্টিয়া সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসন সহ সর্বমহলে জানাজানি হয়ে যাওয়ার পর তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন প্রশাসন ইতিমধ্যে তার এক সঙ্গীওকে আটক করেছেন ইবি থানা পুলিশ। বর্তমানে সুমন পলাতক রয়েছে তাকে খুঁজছে পুলিশ প্রশাসন।

এ বিষয়ে ইবি থানা অফিসার ইনচার্জের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি সেই সাথে প্রতারক সুমনকে আইনের আওতায় আনার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ইতিমধ্যে তার কাছের একজন কে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে মনোহরদিয়া ক্যাম্প ইনচার্জ এস আই কামরানের মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ আমাকে সুমনের চাউল বিক্রয় নাটক বিষয়টি আমাকে বলেন, আমি বিষয়টি তদন্তপূর্বক তাকে গ্রেফতর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এছাড়াও প্রতারক নেতা সুমনের বিরুদ্ধে একাধিক নারীঘটিত কেলেঙ্কারি রয়েছে বলে এলাকাবাসী প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। তারা এটাও বলেন একজন নোংরা মনের মানুষ কিভাবে সরকার দলীয় রাজনীতিতে ঢুকে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে, এবং আগামী ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটা জনমনে ব্যপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে যা আগামীতে প্রকাশিত হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়