নেতা নয় জনগণের সেবক হয়ে কাজ করতে চাই- সানোয়ার মোল্লা

কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলার প্রতিনিধি।।
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৪ অক্টোবর, ২০২১
  • ৪০ বার পঠিত

 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে বুকে লালন করে সেই ছোটবেলা থেকেই আওয়ামী রাজনীতি সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন দুর্বাচারা গ্রামের আওয়ামীলীগ পরিবারের সন্তান সানোয়ার মোল্লা। আসন্ন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ১০ নং উজানগ্রাম ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সকলের মুখে মুখে রব উঠেছে একটিই নাম সেটি হলো উজানগ্রাম ইউপি আওয়ামী লীগের সফল সভাপতি, আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান ও তরুণ প্রজন্মের আইকন সানোয়ার হোসেন মোল্লা।

জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে তিনি সর্বপ্রথমে রয়েছেন বলে ইউনিয়ন বাসী প্রতিবেদককে জানান। ইউনিয়ন বাসী বলেন ২০১১ সালে তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়ে সামান্য ভোটে পরাজিত হন। ২০১৬ সালে দলীয় প্রতীক না পেয়ে দলের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তিনি নির্বাচনে অংশ নেন নাই। দলীয় সিদ্ধান্ত মতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করে তবুও তিনি নৌকার হাল ছাড়েননি। তিনি জীবনটাকে আওয়ামী লীগ সংগঠনকে বুকে আঁকড়ে ধরে আছেন দীর্ঘদিন ধরে। তার রাজনৈতিক বর্ণাঢ্য জীবনে এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এজন্যই উজানগ্রাম ইউপিবাসী তাকে এবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই বলে মন্তব্য করেন। তবে ছানোয়ার মোল্লা ইতিমধ্যে তরুণ প্রজন্মের কাছে একটি আইকন হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন।

এবারের নির্বাচনী নৌকা প্রতীক নিয়ে উজান গ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দুর্দিনের কান্ডারী, জামায়াত বিএনপি কর্তৃক নির্যাতনের শিকার বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে নেতা হয়ে নয় জনগণের সেবক হিসেবে পাশে থেকে কাজ করতে চাই বলে সানোয়ার মোল্লা প্রতিবেদককে বলেন। তিনি এটাও বলেন আমি চেয়ারম্যান না হয়েও ইউপি বাসীর জন্য সময়ে অসময়ে ও করোনাকালীন সময়ে যে সাহায্য-সহযোগিতা জনগণের মাঝে করেছি তা জনগণ কখনোই ভুলবেনা। আমি চেয়ারম্যান হতে পারলে উজানগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদকে নতুন করে ঢেলে সাজাবো সেই সাথে একটি দুর্নীতিমুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করবো।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়