প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা হুমকির প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

 কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৪ জুন, ২০২২
  • ৫১ বার পঠিত

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিএনপি কর্তৃক হত্যার হুমকির প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন। কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ এ কর্মসূচীর আয়োজন করে। শনিবার বিকাল ৪ ঘটিকার সময় কুষ্টিয়া পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী। বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হাজী রবিউল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও বিজ্ঞ পিপি এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী, ডাঃ আমিনুল হক রতন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. হাসানুল আসকার হাসু, তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক ও কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব কেপিসির সভাপতি হাজী‌ রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিজ্ঞ জিপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ স ম আখতারুজ্জামান মাসুম।
শহর আওমী লীগের সভাপতি তাইজাল আলি খান, সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা। এছাড়াও জেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জেলা শহরের এনএস রোড সড়ক প্রদক্ষিণ করে মজমপুর বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, তাঁতী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সমাবেশে এসময় বক্তরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিএনপি কর্তৃক হত্যার হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারের হত্যা করা হয়। বিএনপি ও ছাত্রদল ৭৫ এর ঘটনা ঘটনোর হুমকি দেয়। রাজাকার, দেশ বিরোধী, ষড়যন্ত্রকারীদের রুখতে হবে। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

পরবর্তীতে মজমপুর বাস স্ট্যান্ড এ ট্রাফিক আইল্যান্ডে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী। অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে ও বিক্ষোভ মিছিলে জেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়ে আজকের সমাবেশে ও বিক্ষোভ মিছিল সমাপ্ত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে একই দাবিতে জেলার কুমারখালী, খোকসা, ভেড়ামারা, মিরপুর, দৌলতপুর উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ ও দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়