বাংলাদেশ পোস্টম্যান ও ডাক কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচনী সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২১
  • ৬৬ বার পঠিত

 

বাংলাদেশ পোস্টম্যান ও ডাক কর্মচারী ইউনিয়ন কেন্দ্র কমিটি রেজিঃ নম্বর বি ২১২৯ জাতীয় শ্রমিক লীগের অন্তর্ভুক্ত অঙ্গ সংগঠনের নির্বাচনী সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার সকাল ১১ঘটিকার সময় ঢাকা জিপিও চত্বরে অত্র সংগঠনের অস্থায়ী সভাপতি আবুল হাশেম খান খাদেমের সভাপতিত্বে এক নির্বাচনী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত পাঠ করেন জনাব রফিকুল ইসলাম। আলোচ্যসূচি মতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমজাদ আলী খান।

 

নির্বাচনী সাধারণ সভায় বাংলাদেশ ডাক বিভাগের থেকে প্রত্যেকটা জেলার কমিটি, ইউনিট কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলরগণ উপস্থিত থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচনের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব প্রদান করেন সিরাজুল ইসলাম খানকে। এছাড়াও খুলনা সার্কেলের রহিম উল্লাহ, চট্টগ্রাম সার্কেলের মোঃ ফুকন মিয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য যে, নির্বাচন কমিশন দ্রুত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচনের জন্য আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে জেলা শাখার নির্বাচন তফসিল ঘোষণার সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। ১১ই নভেম্বর এর মধ্যে পাঁচটি সার্কেলের নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে সাধারণ সভায় পাস করা হয়।

নির্বাচনী সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি আবু তাহের, সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম খান, সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম সিদ্দিকী, সহ-সভাপতি পরিতোষ কুমার বিশ্বাস, সহ-সভাপতি আকতার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম দোলন, রঞ্জন দে কামাল হোসেন, রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সমীর বিশ্বাস, আব্দুস সালাম শেখ, সিরাজুল ইসলাম ফকির, আসাদুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, কামাল হোসেন, আব্দুস সালাম, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন, যুব বিষয়ক সম্পাদক রুহুল আমিন, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মারুফ হোসেন, মহিলা সম্পাদিকা মাকসুদা খাতুন, নির্বাহী সদস্য সাইফুল ইসলাম, হামিদুল ইসলাম, সার্কেল সম্পাদক হাসানুজ্জামান ফিরোজ।

এছাড়াও বিভিন্ন জেলা শাখা থেকে আগত সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকগণ তাদের মূল্যবান মতামত এবং বক্তব্য পেশ করেন। উক্ত সভায় উপর্যুক্ত সিদ্ধান্তসমূহ সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। নির্বাচনী সাধারণ সভা পর্যবেক্ষণের জন্য উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকারী সভাপতি যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খান সিরাজুল ইসলাম, আলাউদ্দিন মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিএম জাফর, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ ও ঢাকা দক্ষিণ মহানগর শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি ইউসুফ আলী উপস্থিত ছিলেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়