বাতাসে ফুটন্ত ফুলের দোলে,রঙ লেগেছে হরিনাকুণ্ডু ফুলচাষি শিশিরের মনে

 হরিনাকুণ্ডু (ঝিনাইদহ) থেকে রাব্বুল হুসাইন:
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২২
  • ১৪৯ বার পঠিত

ঝিনাইদহের হরিনাকুণ্ডু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের দুবল-কুড়ির বিলে বাহারি রকমের ফুলের চাষ করে সাবলম্বী হয়েছেন ফুল চাষি শিশির। ফুল চাষে সাফল্য দেখে উৎসাহ বাড়তে থাকে তার। সেই থেকে ফুল চাষের পরিকল্পনা নেন তিনি। ছোট বেলা থেকে ফুলের প্রতি ছিলো তার অদম্য ভালবাসা। আকাবাকা মেঠপথ, চারিদিকে সবুজের হাতছানি।

দৃষ্টিসীমার পুরোটা জুড়েই যেন সবুজের সমারোহ। আর পাশের দিগন্ত-বিস্তৃত মাঠে ফুলের সমারোহ যেন স্বর্গীয় সৌন্দর্য নিয়ে এসেছে দুবল-কুড়ির বিল, গড়ে ওঠা এসব বাগানে রয়েছে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফুল। বাহারি রং আর সুগন্ধে ভরপুর ফুলের বাগান। ৪৬ শতক জমিতে রয়েছে রজনীগন্ধা ,গোলাপ,গাঁদা,চন্দ্রমল্লিকা ও চায়না গোলাপ ফুলের সুবাসে প্রতিনিয়তই ছড়াচ্ছে। জানা গেছে, রজনীগন্ধা,গোলাপ ফুল,চন্দ্র মল্লিকা ফুল ও চায়না গোলাপের চাষ করে গত বছরে ৯০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করেছেন তিনি । তবে বাজার যদি স্বাভাবিক থাকে তাহলে অনায়াসে ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা আয় করা সম্ভব বলে আশা করেন ফুল চাষি শিশির। হরিনাকুণ্ডু উপজেলার ৪ নং দৌলতপুর ইউনিয়নের কাঁদিখালী (রামচন্দ্রপুর) গ্রামের ফুল চাষি শিশির আহামেদ দৈনিক দেশের কন্ঠ প্রতিনিধিকে জানানা, গত ২০১৮ সালে দুবলো-কুড়ির বিলের ধারে ৪৬ শতক জমিতে পরীক্ষামূলক ভাবে ফুল চাষ করি। প্রাথমিক ভাবে লক্ষাধিক টাকা খরচ হলেও প্রর্থম বছরেই ৯০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করেছিলাম।

 

 

কিন্তু দুঃখের বিষয় মহামারী মরণব্যাধি করোনা ভাইরাসে প্রায় ১ লক্ষ টাকা লোকসান শুনতে হয়েছে। তারপর ও থেমে থাকেন-নি তরুণ এই উদভাবনীর স্বপ্ন। দুবলো-কুড়ির বিলে অধিকাংশ জমিতে ধান চাষ করতেন । কিন্তু ফুল চাষে অধিক লাভজনক হওয়ায় ধানের চাষের পরিবর্তে ফুল চাষের দিকে ঝুঁকছেন তিনি। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে আরও কিছু জমিতে এই চাষ বাড়ানো হবে। সরকারি সহায়তা পেলে আগামীতে এই ফুল চাষ বৃহত্তর পরিসরে করতে চাই। আমি এই ফুল অত্র অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে জেলা শহর-সহ অন্যান্য অঞ্চলেও বানিজ্যিক ভাবে পাঠিয়ে থাকি। খুলনা অঞ্চলের রাজারহাট কোয়াদা থেকে চারা এনে ফুল লাগানোর প্রথম বছরেই ফুল বিক্রি করতে পারি। এবং ফুল চাষ বেলে দোআঁশ মাটিতে অল্প পরিচর্যা আর অল্প খরচে ফুলের চাষ হচ্ছে। শুকনা মৌসুম হচ্ছে ফুল চাষের একটি ফুল মৌসুম। আমাদের এলাকায় মাটি ভালো তাই তেমন কোন ক্ষতি হয় না।

 

চুয়াডাঙ্গা,আলমডাঙ্গা,কুষ্টিয়া,ঝিনাইদহ,হরিনাকুণ্ডু, মাগুরাসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে এসে ব্যবসায়ীরা ফুল নিয়ে যায়, ১০০টি ১০০-১৫০ টাকা,রজনীগন্ধ ১০০টি ৯০-১২০ টাকা, গাঁদা এক হাজার ৩৫০-৪৫০ টাকা। সারা বছরই ফুল বিক্রি হলেও বিশেষ দিন বিশ্ব ভালবাসা,পহেলা বৈশাখ, ইংরেজি নববর্ষ,২১শে ফেব্রুয়ারি,২৬ মার্চ ১৬ ডিসেম্বর ফুলের চাহিদা বেশি থাকায় দামও বৃদ্ধি পায়। তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১০ সালে ঝিনাইদহ জেলার শিশুকুঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজে থেকে এস এস,সি পাশ করে। ২০১২ সালে এইচ এসসি ও সরকারি লালন শাহ্ কলেজে অনার্স রাষ্ট্র ভর্তি হলেও সাংসারিক চাপে বেশিদিন টিকতে পারিনি। আটকে গেল বৈবাহিক জীবনে। আর হলো না শিক্ষা।

 

তাই বলে কি থেমে যাবে স্বপ্ন..? আগামী-দিনের পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল মিয়া জানান, হরিনাকুণ্ডু উপজেলার দুবল-কু্ড়ির বিলে ফুল চাষের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। আগে শহর থেকে ফুল আনতেই শুকিয়ে যেত,খরচও বেশি পড়ত। এখন নিজ জমিতে পাচ্ছেন। শহর থেকে কেনার তুলনায় লাভও বেশি হচ্ছে। পাশাপাশি কম দামে তাজা ফুল পাচ্ছেন ক্রেতারা। হরিনাকুণ্ডু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাফিজ হাসান জানান, এ উপজেলায় ফুল চাষের ব্যাপক সম্ভাবণা আছে। মটি ও জলবায়ু ফুল চাষের জন্য উপযোগী।

 

 

বিলের পাশে ফুল চাষ করা হচ্ছে শুনেছি। এখনো তেমন কোন সহযোগীতা করা হয় নাই।গান্না ফুল চাষি সমিতির সাথে দুই দিন কথা হয়েছে। তারা বলেছে হরিনাকুণ্ডু থেকে কোন কৃষক চাষে এগিয়ে আসলে বাজারজাত করার বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। সেই সাথে কৃষি অফিস কৃষকের মার্কেট লিংকেজ তৈরি করা সহ বিশেষ করে চাষের সময় যে কোনো রকমের সহযোগিতা করতে কৃষকের পাশে থাকবে। তিনি আরও বলেন, এই মূহুর্তে আমাদের কোন প্রকল্প নেই ফুল চাষের বিষয়ে। তবে বেশ কয়েকটি কৃষক আগ্রহী থাকলে,পরবর্তীতে আমরা প্রস্তাব পাঠাতে পারবো। এবং আশা করি কৃষক আগ্রহী থাকলে,আগামী বছর আমরা সহকারী কোনো সহযোগিতা পেতে পারি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়