মিঠাপুকুরে চাঞ্চল্যকর ভ্যানচালক হত্যা মামলার ক্লু উদঘাটন, গ্রেফতার -২

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ১৫৫ বার পঠিত

 

রংপুর জেলার মিঠাপুকুরে চাঞ্চল্যকর ভ্যান চালক মিয়াজান (৪২) হত্যা মামলার ক্লু উদঘাটন। প্রধান দুই আসামী গ্রেফতার, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মাফলার এবং ভ্যান ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মামলা সূএে, মৃত মিয়াজান মিয়া (৪২) পেশায় একজন ভ্যান চালক। তিনি মিঠাপুকুর গড়ের মাথা টু ফুলবাড়ী রাস্তায় নিয়মিত ভ্যান চালাতেন। গত (২০ জানুয়ারি ২২) আনুমানিক ভোর ৪.৩০ মিনিটে মিয়াজান মিয়া(৪২), পিতা- মৃত নমির উদ্দিন পাইকার , সাং- চেংমারী পশ্চিমপাড়া, ৮ নং চেংমারী ইউনিয়ন, থানা- মিঠাপুকুর , জেলা- রংপুর। ব্যাটারী চালিত ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়িতে ফিরে আসে নাই। পরের দিন সকাল ৭ টায় মিয়াজানের লাশ আম গাছের সাথে হাত-পা বাধা অবস্থায় মিঠাপুকুর ৮ নং চেংমারী ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের মোঃ ইমাম আলীর আম বাগান থেকে উদ্ধার করা হয়। হত্যাকারীরা তাঁর ব্যাটারি চালিত ভ্যান এবং মোবাইল ফোনটি নিয়ে চলে যায়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তিকে হারিয়ে উক্ত পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। মৃত মিয়াজানের বউ রোমানা বেগম(৩৬) বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামে মিঠাপুকুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন-মামলা নং-২১। মিঠাপুকুর থানা পুলিশ কালবিলম্ব না করে হত্যাকারীদের গ্রেফতার অভিযানে নেমে পড়ে। রংপুর জেলা পুলিশ সুপার জনাব ফেরদৌস আলী চৌধুরীর নির্দেশে মিঠাপুকুর থানার অত্র মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই এনামুল হক ও সঙ্গীয় ফোর্সদের সহযোগিতায়(২ ফেব্রুয়ারী) দুপুর সাড়ে ১২টায় মিঠাপুকুর থানার রামেশ্বরপুর গ্রাম থেকে আসামী ১। মোঃ মনিরুজ্জামান ওরফে মনির(১৭), পিতা- মোঃ আতিয়ার রহমান, সাং- রামেশ্বরপুর, থানা- মিঠাপুকুর, জেলা- রংপুর কে গ্রেফতার করে। মনিরের কাছ থেকে মৃত মিয়াজানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মাফলার উদ্ধার করে পুলিশ। মনিরের দেয়া তথ্যমতে হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত অপর আসামি ২। মোঃ মেহেদি হাসান ওরফে সানি(১৬), পিতা- মোতালেব হোসেন, গ্রাম-কাশিমপুর সরকার পাড়া, থানা- মিঠাপুকুর, জেলা- রংপুর কে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। মেহেদি হাসান সানির দেয়া তথ্যমতে রংপুর জেলার গংগাচড়া থানাধীন গজঘন্টা ইউনিয়নের একটি গ্যারেজ থেকে মিয়াজানের ব্যাটারি চালিত ভ্যানটি উদ্ধার করে। আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, মনিরুজ্জামান এবং মেহেদি হাসান উভয়ে ২০২১ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তারা খুব ভালো বন্ধু এবং একই সাথে চলাফেরা করে। তাদের কাছে কোন টাকা না থাকায় তারা তাদের সমস্যার কথা প্রতিবেশী পলাতক আসামী মোঃ বুলবুল আহমেদ (২৬), পিতা- মোঃ মুকুল মিয়া, সাং- কাশিমপুর সরকার পাড়া,থানা- মিঠাপুকুর, জেলা- রংপুর কে জানায়। বুলবুল তাদের একটি পরিকল্পনার কথা বলে যে, তারা যাত্রীবেশি একটি ভ্যান ভাড়া করবে এবং নির্জন জায়গায় গিয়ে চালকের কাছ থেকে জোরপূর্বক ভ্যানটি কেড়ে নিয়ে যাবে।পরে বুলবুল উক্ত ভ্যান বিক্রি করে তাদেরকে ৫০০০ টাকা করে দিবে। উক্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী বুলবুল, মেহেদি এবং মনির, মোসলেম বাজারে আসে কিন্তু সব ভ্যান চালক তাদের পরিচিত হওয়ায় তাদের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছিল না। তবুও তারা তাদের শিকারের সন্ধানে অপেক্ষা করতে থাকে। রাত আনুমানিক ৪.৩০ মিনিটে মিয়াজান তার ভ্যান নিয়ে মোসলেম বাজারে আসলে মেহেদি, বুলবুল এবং মনির যাত্রীবেশে উক্ত ভ্যানে ওঠে পড়ে এবং পাগলারহাটের দিকে যাইতে থাকে । পাগলার হাট আসার আগেই ভরসা কোম্পানিস্থ আম বাগানের পাশে নির্জন জায়গায় আসলে পুর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বুলবুল তার মাফলার দিয়ে মিয়াজানের গলা পেচিয়ে ধরে মুল রাস্তা থেকে ৩০০ মিটার দূরে আমবাগানে নিয়ে তিনজন মিলে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। এরপর তারা ভ্যানে থাকা দড়ি দিয়ে মিয়াজানের হাত,পা আমগাছের সাথে বেধে ভ্যানটি নিয়ে রাতেই রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া থানাধীন গজঘন্টা এলাকায় চলে যায়। পরের দিন তারা ভ্যানটি বিক্রি করে নিজ নিজ বাসায় ফেরত আসে। পরে তারা মিয়াজানের নামাযের জানাযাতেও অংশগ্রহণ করে। মিয়াজানের হত্যাকারীরা গ্রেফতার হওয়ায় তার পরিবারসহ এলাকাবাসী খুবই খুশি হয়েছেন। গ্রেফতারকৃত আসামীরা স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর