মেহেরপুরে বারোমাসি থাই কাটিমন জাতের আমচাষে সাফল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২০ আগস্ট, ২০২২
  • ১৬২ বার পঠিত

চাপাইনবাবগঞ্জের পরেই আম বলতে মেহেরপুরের আম। মেহেরপুরের হিমসাগর বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। জেলায় নানাধরণের আম থাকলেও এবার সংযুক্ত হলো বারোমাসি থাই জাতের কাটিমন আম। ইউটিউব দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে সুমিষ্ট ও স্বাদে ভরপুর কাটিমন জাতের আম চাষে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামের আমচাষী মঈন-উল-আলম ওরফ বুলবুল। আমঝুপি বিএডিসি বীজ উৎপাদন খামারের পাশেই বুলবুলের আম বাগান।

যেখানে ২৪০টি আম গাছের ডালে ডালে ঝুলছে থোকা থোকা আম। সরেজমিনে বুলবুল এর বাগান ঘুরে একই গাছে কোনটি পরিপক্ক, কোনটি কাঁচা আবার কোন ডালে দেখা যাচ্ছে মুকুল। গত সপ্তাহে বাজারজাত করেছেন প্রায় ৫০ হাজার টাকার আম। প্রতি কেজি আম ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। অপেক্ষায় রয়েছেন আগামী সপ্তাহে আরও ২’শ মন আম বিক্রির জন্য। আমচাষী বুলবুল জানান, তিনি পরীক্ষামূলক ভাবে প্রায় ২ বিঘা জমিতে ২৪০ টি থাই কাটিমনের চারা রোপণ করছিলেন ২০২১ সালের শুরুতে। গাছ গুলোর বর্তমান বয়স মাত্র দেড় বছর।

 

আমের সিজনে তিনি আমের গুটি ঝরিয়ে ফেলেন এবং যখন এলাকায় আম থাকেনা সেসময় বিক্রি করেন। তিনি জানান, বছরে এ গাছ থেকে ৩ বার আম বিক্রি করা যায়। চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে তিনি চারা সংগ্রহ করে রোপণ করেন। বর্তমানে তিনিও এ বাগান থেকে চারা বিক্রি করছেন। আমের ফলন ভালো হওয়ায় তিনি বাগান সম্প্রসারিত করবেন বলে জানান। বুলবুল জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে সকল খরচ বাদ দিয়ে এ বাগান থেকে কমপক্ষে আড়াই লক্ষ টাকা আয় করা সম্ভব। তাছাড়া মেহেরপুর খরা প্রবণ এলাকা। মানুষের বেঁচে থাকার তাগিদে অক্সিজেন ছাড়া সম্ভব নয়।

 

 

একারণে গাছের বিকল্প নেই। তিনি অক্সিজেনের চাহিদা ও সুমিষ্ট স্বাদে ভরপুর আম এবং অর্থনৈতিক চাকাকে সচল রাখতে বেকার যুবকদের আম চাষে উদ্বুদ্ধকরণের উপর গুরুত্বআরোপের তাগিদ দেন। মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানান, ইউটিউবে দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে পরীক্ষামূলক ভাবে ২ বিঘা জমিতে কাটিমন জাতের হাইব্রিড থাই বারোমাসি আম চাষে সাফল্য পেয়েছেন মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামের চাষী মঈন উল- আলম।

 

 

তিনার সাফল্য দেখে নতুন করে আরও ৩ জন কৃষক থাই আম চাষের দিকে ঝুকেছেন। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে গাছ পরিচর্যার জন্য চাষীদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়