রংপুরে ডিবি কর্তৃক ইয়াবা ট্যাবলেট ও গাঁজা উদ্ধারসহ ০৪ আসামী গ্রেফতার।

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২১
  • ২৪ বার পঠিত

আজ ২৫ নভেম্বর(বৃহস্পতিবার) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রংপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা বিভাগ(ডিবি উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনানের নির্দেশনায় অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোঃ সাজ্জাদ হোসেন এর পরিকল্পনায় রংপুর মহানগরীর কোতয়ালী থানা এলাকায় ৩ টি পৃথক অভিযান পরিচালনা করে মোট ৩২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩ কেজি ২০০ গ্রাম শুকনো গাঁজা উদ্ধারসহ ৩ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়।
১ম অভিযানে রাত্রী ১২.৩০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ পরিদর্শক(নিঃ) মোঃ মোতালেব হোসেন এর নেতৃত্বে এসআই(নিঃ) মোঃ বাবুল ইসলাম, এসআই (নিঃ) মোঃ গোলাম মোর্শেদ এবং সঙ্গীয় ফোর্সসহ আরপি এমপি, রংপুর কোতয়ালী থানাধীন ২১ নং ওয়ার্ডস্থ নিউ আদর্শপাড়া মোড় থেকে ২০(বিশ) পিস কমলা রংয়ের নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ আসামী ১। মোঃ বুলবুল আহেমদ বাধন(২৮) পিতা- মোঃ আঃ হালিম ড্রাইভার, সাং- নিউ আদর্শপাড়া, থানা- কোতয়ালী, রংপুর মহানগর, রংপুর-কে গ্রেফতার করা হয়।
২য় অভিযানে রাত্রী ২.০০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ পরিদর্শক(নিঃ) মোঃ ছালেহ্ আহাম্মদ পাঠান এর নেতৃত্বে আরপিএমপি, রংপুর কোতয়ালী থানাধীন ২১ নং ওয়ার্ডে বেতপট্টিস্থ হোটেল রাজ এর চতুর্থ তলার ৩৪ নম্বর কক্ষে মাদক দ্রব্য ইয়াবা এবং গাঁজা ক্রয়-বিক্রয় কালে ৩০০(তিনশত) পিস কমলা রং যুক্ত নেশা জাতীয় মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ১(এক) কেজি ২০০(দুইশত) গ্রাম নেশা জাতীয় শুকনো গাঁজা উদ্ধারসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের নাম-
১। মোঃ মেহেদি হাসান ওরফে মহোন (২৮), পিতা- মৃত আঃ ছালাম, সাং- গুপ্তপাড়া, ওয়ার্ড নং-২৪,২। মোঃ হাসান (৩৮), পিতা- মোঃ আঃ করিম, সাং-সেনপাড়া, ওয়ার্ড নং-২১, উভয় থানা- কোতয়ালী, রংপুর মহানগর, রংপুর
৩য় অভিযানে দুপুর ২ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই(নিঃ) মোঃ নাজমুল ইসলাম এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্সসহ আরপিএমপি, রংপুর কোতয়ালী থানাধীন ১৮ নং ওয়ার্ডস্থ ডিসি মোড় বঙ্গবন্ধু ম্যুড়ালের ২০ গজ পূর্বে দিকে পাকা রাস্তার উপর থেকে নেশা জাতীয় মাদকদ্রব্য ২ কেজি শুকনো গাঁজা উদ্ধারসহ আসামী মোঃ শাহিনুর ইসলাম (২০), পিতা- মোঃ তোজাম সরকার, সাং- গাওচুলকার, থানা- হাতিবান্ধা, জেলা- লালমনিরহাট-কে গ্রেফতার করা হয়।
উক্ত অভিযানগুলোতে গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এর অধীন পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করা হয়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়