রৌমারীতে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল

নয়ন দাস,কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২১
  • ৭৮ বার পঠিত

 

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে রৌমারী টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ অধ্যক্ষ এসএম হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে ৪ দফা দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল, ভাংচুর, রাস্তা অবরোধ ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কলেজ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় ৩৬ জন শিক্ষার্থীকে সাথে নিয়ে রৌমারী টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের প্রায় ৬শত শিক্ষার্থী অত্র কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল বের করে রৌমারী উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে মিলিত হয়। পরে কলেজের শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

অভিযোগ ও শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জানা যায়, এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা) ২য় বর্ষের ৩৬জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তিন হাজার করে টাকা নিয়েও ফরম পূরন করেনি অধ্যক্ষ এস এম হুমায়ুন কবীর। অধ্যক্ষের গাফলতির কারণে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় ৩৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আগামী ২ডিসেম্বর/২১ তারিখ এইচএসসি/সমমান পরীক্ষা শুরু হবে।

এইচএসসি ২য় বর্ষের পরীক্ষার্থী রুপসী, সুমাইয়া, মিলন বলেন, অত্র কলেজের অধ্যক্ষ এস এম হুমায়ুন কবীর কাছে ফরম পূরণের জন্য তিন হাজার করে টাকা জমা দিছি, কলেজে পরীক্ষা প্রবেশপত্রের জন্য গিয়ে দেখি আমাদের ৩৬জন শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র নেই। বিষয়টি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জানাজানি হলে আমরা সবাই অধ্যক্ষের রুমে গেলে, তিনি কলেজ থেকে পালিয়ে যায়। অধ্যক্ষের মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় আমরা বিক্ষোভ মিছিল করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর অভিযোগ করি।

পরীক্ষার্থী হাফিজুর, সেলিম বলেন, এইচএসসি ১ম বর্ষের আমাদের ১৫৬জন শিক্ষার্থীকে ফেলের কথা বলে ১ হাজার দুইশত করে টাকা নিয়েছে। আমরা পরে জানতে পারি কেউ ফেল করেনি। আমরা ছয়শত শিক্ষার্থী এখন পর্যন্ত উপবৃত্তির টাকা পাইনি, উপবৃত্তির নাম দেওয়ার কথা বলে ১ হাজার করে টাকা সকল শিক্ষার্থীর কাছ নিয়েছে অধ্যক্ষ। আমাদের জীবনের বড় ধরনের ক্ষতি করল অধ্যক্ষ। তার গাফলতির কারনে আমরা পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমরা এর ন্যায় বিচার চাই।

নাম প্রকাশ না শর্তে অত্র কলেজের অনেক প্রভাষক বলেন, অধ্যক্ষ এস এম হুমায়ুন কবীর শিক্ষার্থী কাছ থেকে উপবৃত্তি নাম দেওয়ার কথা বলে ১ হাজার করে টাকা নেওয়াসহ বিভিন্ন খাতে শিক্ষার্থীদের কাছে নেওয়া টাকা সে নিজেই আত্মসাত করেন। আমাদের কোন টাকা পয়সা প্রদান করে না, আমরা শুধু বেতন পাই।
রৌমারী টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ এস এম হুমায়ুন কবীর সাথে কথা বলার জন্য কলেজ ও তার বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়টি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড দেখেন, আমাদের করার কিছুই নেই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান বলেন, রৌমারী টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের বিষয়টি তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. আবদুর রহমান বলেন, গতকাল ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফরম পূরনের সুযোগ ছিলো, আমাদের করার কিছুই নেই, কলেজের অধ্যক্ষ টাকা নিয়ে কেন ফরম পূরন করেনি, তা আমার বোধগম্য নয়। পরীক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র না পেলে পরীক্ষার কোন সুযোগ নেই।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়