২০ বছর পর অপারেশন করে বের করা হলো কাঁচি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৫২৫ বার পঠিত

 

বাচেনা খাতুনের পেট থেকে ২০বছর পর আর্টারি ফরসেপ (কাঁচি) অপসারণ করা হয়েছে। আজ সোমবার(১০জানুয়ারী) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেই কাঁচি অপসারণ করা হয়।

বাচেনা খাতুনের অস্ত্রোপাচারের তথ্য নিশ্চিত করেন চুয়াডাঙ্গা জেনারেল হাসপাতালে সার্জারির সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ওয়ালিউর রহমান নয়ন। বাচেনা খাতুন চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামের আব্দুল হামিদ এর স্ত্রী।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সার্জারি কনসালটেন্ট (সিনিয়র) ডা. ওয়ালিউর রহমান বলেন,মঙ্গলবার(৪জানুয়ার) বাচেনা খাতুন চুয়াডাঙ্গা জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি হন। মাত্রা অতিরিক্ত ডায়াবেটিস থাকার কারণে ঐদিন অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ আজ তার অস্ত্রোপচার করা হয়।

উল্লেখ্যঃ২০০২সালের ২৫মার্চ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাজা ক্লিনিক পিত্তথলিতে পাথর অস্ত্রোপচার করিয়েছেন বাচেনা খাতুন। অস্ত্রোপচার করেছিলেন সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডা. মিজানুর রহমান, তার সহকারী হিসেবে ছিলেন রাজা ক্লিনিক এর স্বত্বাধিকারী ডা. পারভিয়াস হোসেন রাজা ও অ্যানেস্থেসিয়া করেন ডা. তাপস কুমার। অস্ত্রপাচারের এক সপ্তাহ পরে বাচেনা খাতুনকে প্রেসক্রিপশন দিয়ে ছাড়পত্র দেয়া হয় হাসপাতাল থেকে। কিন্তু সুস্থ হওয়ার আশায় এসে তিনি সুস্থ হতে পারেননি। পেট ব্যথা অসহ্য যন্ত্রনায় নিয়ে রাজা ক্লিনিক এর শরণাপন্ন হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে কোন প্রকার চিকিৎসা না দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিল। এরপর থেকে চিকিৎসা করতে গিয়ে জমি-জায়গা,গরু-ছাগল বিক্রি করে তিনি প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছেন।অবশেষে রবিবার(২জানুয়ারী) রাজশাহী একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক্সরে করে কাঁচির সন্ধান পাওয়া যায়।

গত বুধবার(৫ জানুয়ারী) মেহেরপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা.জওয়াহেরুল আনাম সিদ্দিকী অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসক ও রাজা ক্লিনিক মালিকের বিরুদ্ধে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর গাংনীর সেই রাজা ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান এই কর্মকর্তা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর