কুষ্টিয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিরুদ্ধে দুই যুবককে অস্ত্র দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বেলা দুইটার দিকে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের এম এ রাজ্জাক মিলনায়তনে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুজনের পরিবারের সদস্যরা এ অভিযোগ করেন। তবে পরিবার দুটির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক উল ইসলাম। তিনি বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। গ্রেপ্তার দুই যুবক হলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শালঘর মধুয়া গ্রামের আরিফুল ইসলাম (২৮) এবং সদর উপজেলার দুর্বাচারা গ্রামের মো. আব্দুল্লাহ (২৮)। আজ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আরিফুল ইসলামের ভাগনি ইতি খাতুন। এ সময় তাঁর পাশে আরিফুলের স্ত্রী বেবি খাতুন, আব্দুল্লাহর স্ত্রী মিথিলা ফারজানা ও মা সাহেদা খাতুন উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার দুর্বাচারা বাজারে শতাধিক মানুষের সামনে থেকে আব্দুল্লাহকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি। একই কায়দায় আরিফুল ইসলামকেও আটক করা হয়। কিন্তু আটকের সময় তাঁদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। বাজারে উপস্থিত লোকজনের সামনে পুলিশ কোনো অস্ত্র দেখাতে পারেনি। এর ভিডিও ফুটেজও সংরক্ষিত আছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, দুর্বাচারা গ্রামের চরমপন্থী জাহাঙ্গীর কবির ওরফে লিপ্টন এবং দরবেশপুর গ্রামের টাইগার মামুনের সঙ্গে তাঁদের (দুই যুবকের পরিবার) দীর্ঘদিনের শত্রুতা চলছে। লিপ্টন ও টাইগার মামুনের ইন্ধনেই ডিবি আরিফুল ও আব্দুল্লাহকে বাজার থেকে তুলে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজিয়েছে। লিপ্টন ও টাইগার আত্মগোপনে থেকে প্রশাসনকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। আব্দুল্লাহর স্ত্রী মিথিলা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, বুধবার বিকেলে তাঁর স্বামীসহ আরিফুলকে আদালতে তোলা হয়। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতে তাঁদের সঙ্গে দেখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ডিবি পুলিশের এসআই রকিব উদ্দিন জনি যখন আরিফ ও আব্দুল্লাহকে আটক করেন, তখন তাদের কাছে কোনো প্রকার অস্ত্র ছিল না। আটকের সময় উপস্থিত জনসাধারণের বাধার মুখে পুলিশ কোনো অস্ত্র দেখাতে পারেনি, যার ভিডিও ফুটেজও সংরক্ষিত আছে বলে জানান তারা।
জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তারের পর পরিবারের পক্ষ থেকে যেকোনো দাবি উঠতেই পারে। তাঁর দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে ওই দুজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে ডিবি। পরিবারের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারের সময় অস্ত্র না থাকার যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।