জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভা ও দোয়া
মাহফিল; আইনের শাসন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় জোর
নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিল (বিসিআরসি)। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, বিচারাঙ্গনের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিত্ব এবং সাংবাদিক সমাজের বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন।
সংগঠনের সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক আলী আশরাফ আখন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি ও বিএনপি নেতা বিচারপতি মো. আব্দুস সালাম মামুন। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন।
বক্তারা বলেন, নতুন সরকারের নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনায় গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা সুসংহত করা, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা করা সময়ের অপরিহার্য দাবি। তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন—সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা সুরক্ষিত রেখে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে।
একই সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রেজাবুদ্দৌল চৌধুরী, ড.জিয়াউল ইসলাম মুন্না, ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা এল রহমান, ই-ক্রয় ডটকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম মোশফেকুল আলম,
‘ফলাফল’ পত্রিকার সম্পাদক শেখ মোস্তাফিজুর রহমান, খান আক্তারজ্জামান, বাসাইল উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এসএম মোতালেব এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ জাহিরুল ইসলাম হিটলু প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাহেদ আহমেদ। সূচনায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী সীমা ইসলাম, যা উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ সৃষ্টি করে।
আলোচনা সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সফলতা কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ড. জিয়াউল ইসলাম মুন্না।
সভায় বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন—নতুন সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পুনঃপ্রতিষ্ঠা সুদৃঢ় হবে এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর অগ্রগতি অর্জিত হবে।
পাশাপাশি সাংবাদিক সমাজের ন্যায্য অধিকার ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় সরকারের সুস্পষ্ট ও ইতিবাচক ভূমিকার প্রত্যাশা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।