পরকীয়ার অভিযোগ, একের পর এক সংসার ভাঙার গল্প মহিদুলকে ঘিরে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৬ বার পঠিত

 

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চর সেনাকুড় সরদারপাড়ার মো. মহিদুল ইসলাম (৩৮)-এর বিরুদ্ধে এক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সংসার ভাঙা, অর্থ ও স্বর্ণ নেওয়া এবং পরে ওই নারীকে নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মহিদুলের প্রথম স্ত্রী কচুয়া থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফকিরহাট থানাধীন এলাকার মো. হান্নান (৪৭)-এর স্ত্রী নাইমা খানম (৩০)-এর সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে মহিদুলের সম্পর্ক তৈরি হয়। বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে নাইমার সংসার ভাঙার পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। নাইমার ১০ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

এলাকার তথ্যসূত্র বলছে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর নাইমাকে চট্টগ্রামে তার বোনের বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং মহিদুলের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রাখতে বলা হয়। সম্প্রতি বাবার চিকিৎসার কথা বলে নাইমা বোনের কাছ থেকে প্রায় তিন ভরি স্বর্ণ এবং ভগ্নিপতির কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ধার নেন। চট্টগ্রাম এসে স্বর্ণ এবং টাকা ফেরত দিবেন বলে আশ্বস্ত করেন বোন এবং ভগ্নিপতিকে।

অভিযোগ রয়েছে, কচুয়ায় যাওয়ার পর মহিদুলের সঙ্গে নাইমার দেখা হয়। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে তাকে মহিদুলের ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় একাধিক বার। বিষয়টি জানাজানি হলে এরপর গত প্রায় ১০ দিন পূর্বে নাইমা ও মহিদুলের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন।

পরিবারের অভিযোগ, তাদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অধিকাংশ সময় ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে নাইমার মাধ্যমে তার বোন, ভগ্নিপতি ও বাবাকে ভয়ভীতি দেখানো এবং আইনি পদক্ষেপ নিলে মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের আরও দাবি, মহিদুলের স্ত্রী ও দুই মেয়ে থাকা সত্ত্বেও তিনি এর আগে আরো তিন থেকে চার টা বিয়ে করেছেন। তার বিরুদ্ধে নারীসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের পাশাপাশি মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয়ভাবে মহিদুল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত হলেও কচুয়া বাজারের তার দোকানটি ছোট ভাই পরিচালনা করেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। দীর্ঘদিন এলাকার বাইরে অবস্থান করে তিনি বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে মহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নাইমা খানমের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ নারী ও তার সঙ্গে থাকা স্বর্ণ-টাকার সন্ধান এবং অভিযোগের সত্যতার নির্দিষ্ট প্রমাণ আছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর