বিটিসিএল কলোনীর সরকারি কোয়ার্টার দখল করে রমরমা বাণিজ্যের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৭৩ বার পঠিত
{"data":{"activityName":"","alias":"","appversion":"0.0.1","editType":"image_edit","exportType":"ads_export","filterId":"","imageEffectId":"","os":"android","pictureId":"028323b1f0d84ce4a51f30c34e7e4d55","playId":"","product":"lv","infoStickerId":"","stickerId":""},"source_type":"vicut","tiktok_developers_3p_anchor_params":"{"source_type":"vicut","client_key":"aw889s25wozf8s7e","picture_template_id":"","capability_name":"retouch_edit_tool"}"}

 

 

রাজধানীর বনানীর কড়াইল এলাকায় অবস্থিত বিটিসিএল কলোনীতে সরকারি কোয়ার্টার দখল করে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাণিজ্য ও নানা অনিয়ম চলার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন টেলিযোগাযোগ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক মহাসচিব মোঃ খোরশেদ আলম ও সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মিল্টন মিয়া।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের তত্ত্বাবধানে বিটিসিএল কলোনীর অন্তত ৮ থেকে ১০টি সরকারি কোয়ার্টার বহিরাগতদের কাছে অবৈধভাবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

এ ভাড়া আদায়ের দায়িত্বে রয়েছেন বিটিসিএলের আইটি অ্যান্ড বিলিং শেরেবাংলা নগর শাখায় কর্মরত বার্তাবাহক মোঃ শহীদুল ইসলাম, যিনি ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, উপ-
মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ইমারত সংরক্ষণ বিভাগে কর্মরত গার্ড মোঃ জয়নাল আবেদীন অদৃশ্য শক্তির বলে পাঁচজন বহিরাগতকে কোয়ার্টার ভাড়া দিয়েছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা ডিজিএম বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও এখনো পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এদিকে ওটিআর অঞ্চলের অধীন কোলোকেশন বিভাগের টিসিটি, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা জুনিয়র ম্যানেজার মোঃ মিল্টন মিয়ার বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেই একটি সরকারি কোয়ার্টার দখল করে ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। ওই কোয়ার্টারটি অন্য একজন কর্মচারীর নামে বরাদ্দ থাকলেও তাকে সেখানে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিল্টন মিয়া বিটিসিএল এর উদ্ধতন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তার করেন এবং বিভিন্ন কর্মচারীকে ভয়ভীতি দেখান।

উল্লেখ্য,লোকস্ট-২৫ নম্বর কোয়ার্টারটি মিল্টন মিয়ার নামে বরাদ্দ থাকলেও তিনি লোকস্ট-
২৬ নম্বর কোয়ার্টারটিও অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন।

এ বিষয়ে ডিজিএম ইমারত ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ থেকে তাকে নোটিশ প্রদান করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি বলে জানা গেছে।অন্যদিকে, বিল্ডিংয়ে কর্মরত শুক্কুর আলীর বিরুদ্ধে সরকারি পানির লাইন অবৈধভাবে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রতিটি পানির লাইনের জন্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আদায় করেন এবং প্রতি মাসে এসব লাইনের ভাড়া উত্তোলন করেন। স্থানীয়দের দাবি, এ অবৈধ আয়ের একটি অংশ মোঃ খোরশেদ আলম ও মোঃ মিল্টন মিয়াকে দেওয়া হয়। ফলে এই পানির লাইন বাণিজ্য থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ খোরশেদ আলম
,মোঃ মিল্টন মিয়া,মোঃ শহীদুল ইসলাম,মোঃ জয়নাল আবেদীন এবং শুক্কুর আলীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার তাদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তারা কেউই ফোন রিসিভ করেননি কিংবা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রশাসনের অবস্থান বিটিসিএল সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে অভ্যন্তরীণ
ভাবে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি দখল ও অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর