ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিয়েছেন সনাতনী সম্প্রদায়—এমন মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় পতাকা ও সীমান্ত নিরাপত্তা যাদের হাতে সুরক্ষিত থাকবে—এমন নেতৃত্বের প্রতিই আস্থা রেখে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এবারের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। তাদের এই সিদ্ধান্ত একটি ‘যুগান্তকারী পদক্ষেপ’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
শুক্রবার রাতে ফটিকছড়ির নাজিরহাট পৌরসভার পূর্ব সুয়াবিল ব্রাহ্মণপাড়া সর্বজনীন শ্রী শ্রী গীতা ও জগন্নাথ মন্দির পরিচালনা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ৩৯তম গীতা জয়ন্তী ও ষষ্ঠতম অষ্টপ্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরোয়ার আলমগীর আরও বলেন, অতীতে একটি ধারণা প্রচলিত ছিল যে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা প্রতীকের প্রতি অনুরাগী। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সেই ধারণার পরিবর্তন ঘটেছে। তারা প্রমাণ করেছেন—কোনো প্রতীক নয়, বরং যোগ্যতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং দেশের স্বার্থই তাদের কাছে প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোটারিয়ান জুয়েল চক্রবর্তী, শ্রীমৎ স্বামী দেবানন্দ যতি মহারাজ, শ্রীমৎ উজ্জ্বলানন্দ বৃন্দাচারী, শ্রী সুদর্শন চক্রবর্তী, অ্যাডভোকেট তরুণ কিশোর দেব, ড. শ্রীবাস চন্দ্র ভট্টাচার্য, শ্রীযুত বাসু চৌধুরী, গাজী আমান উল্লাহ, ডা. এস কে রায় নান্টু, বাবু স্বপন ধর, ডা. মানিক দেবনাথ, শ্রী অসীম দাশগুপ্ত, শ্রী উজ্জ্বল নাথ, শ্রী আকাশ চৌধুরী নান্টু, সেকত দাশ, শ্রীপ্রভাত বনিক, মাস্টার টিটু মহাজন, শ্রী সঞ্জয় ধরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
মন্দির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শ্রী সজল চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে এবং মানস চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শ্রীযুত সুমন কুমার বনিক।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ভক্ত-অনুরাগীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বক্তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান জানান।