কুষ্টিয়ার মানুষের সুপেয় পানির অভাব পূরণ করে যাচ্ছেন আমেরিকা প্রবাসী জয়‌ নেহাল

কে এম শাহীন রেজা কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১
  • ৫৩ বার পঠিত

 

প্রবাসে বসেও কুষ্টিয়ার মানুষের সুপেয় পানির অভাব পূরণ করে যাচ্ছেন আমেরিকা প্রবাসী জয়‌ নেহাল। জয় নেহালের সহযোগীতায় ও কাজী মশিউর রহমান সোহেলের উদ্দ্যোগে কুষ্টিয়া আমলাপাড়াতে বিশুদ্ধ খাবার পানির কল স্থাপন করা হয়েছে। গতকাল সকাল ১০:০০ টার সময় সুপেয় খাবার পানির টিউবওয়েলটি জন সাধারনের জন্য উম্মোক্ত করা হয় ।

আবাসিক, অনাবাসিক প্রায় কয়েক শত পরিবার এই এলাকায় বসবাস করে থাকেন। তাদের খাবারের জন্য এর আগে শুধু মাত্র ১টি উম্মোক্ত টিউবয়েল ছিল বর্তমানে এটা সহ ২টি টিউবয়েল হল। সমস্ত পত্রিকা,টিভি চ্যেনেলে যখন কুষ্টিয়া বাসী তিব্রপানি সংকটে এই খবর প্রচারীত হয় তখন আমেরীকা প্রবাসী জয় নেহালের সহযোগীতায় ও কাজী মশিউর রহমান সোহেলের উদ্দ্যোগে কুষ্টিয়া আমলাপাড়াতে বিশুদ্ধ খাবার পানির কল স্থাপন করার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়।

কুষ্টিয়া আমলাপাড়ার হাজার হাজার এলাকাবাসী বিশুদ্ধ খাবার পানির টিউবয়েল পেয়ে খুব আনন্দীত।
এলাকাবাসীগন বলেন, জয় নেহাল পৃথিবীর অন্য প্রান্তে থেকে আমাদের এই কষ্টের দিনে পাশে দাড়িয়েছেন। এই জন্য আমরা ধন্য এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে তার ও তার পরিবারের জন্য দোয়া করি তিনি যেন আগামীতে কুষ্টিয়াবাসীর যেকোনো বিপদের সময় এই ভাবে পাশে থাকতে পারেন । স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলেন, মহান আল্লাহ রব্বিল আল-আমিনের দরবারে তার ও তার পরিবারের জন্য বিশেষ ভাবে দোয়া করি ও সুস্থ্য জীবন কামনা করি । সেই সাথে তিনি যেন এই ধরনের মহৎ কাজ সারা জীবন পরিচালনা করতে পারেন এ জন্য দোয়া করি।

এই পর্যন্ত কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান মানবতার সেবক ও একজন প্রকৃত করোনাযোদ্ধা কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক নেহাল স্যারের সন্তান আমেরিকা প্রবাসী জয় নেহালের আর্থিক সহযোগিতায় মোট ৬টি বিশুদ্ধ খাবার পানির টিউবয়েল কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করেছে।

আমেরিকা প্রবাসী জয় নেহাল বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়া সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমার কিছু শুভাকাঙ্খীদের মাধ্যমে এভাবে সহযোগিতা করে আসছি। তিনি এটাও বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলার জন্য অসহায় দরিদ্রদের জন্য আমি একটি প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি সেটি হল কিছু অক্সিজেন সিলিন্ডার কুষ্টিয়ায় অবস্থানরত আমার কিছু শুভাকাঙ্খীদের কাছে থাকবে। এটা শুধুমাত্র অসহায় গরিব দুঃখী করোনা রোগীদের জন্য বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে। এটার কার্যক্রম চলছে অতি শীঘ্রই আমরা আপনাদেরকে জানিয়ে দিব। আগামীতে আরও যেন সহযোগিতা করতে পারি। আপনারা আমাদের পরিবারের জন্য দোয়া করবেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়