চট্টগ্রাম: পেশাদার সাংবাদিকতা, তৃণমুখী সংবাদকর্মীদের কল্যাণ ও সংগঠনের বিকাশে দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ রুর্যাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ)–এর চেয়ারম্যান ও দৈনিক ঘোষণার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক এস এম জহিরুল ইসলামকে সম্মাননা জানিয়েছে চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিআরএ)। সংগঠনের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের শহীদ সাংবাদিকদের স্মৃতি বহনকারী জলিল–যোদ্ধা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। সিআরএ সভাপতি সোহাগ আরেফিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদকসহ সংগঠনের সিনিয়র সদস্যরা। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট সাংবাদিক,লেখক, সাংস্কৃতিক সংগঠক, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন,“তৃণমুল সাংবাদিকতা সুসংগঠিত করা,জেলা–উপজেলায় সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি এবং নৈতিক সাংবাদিকতার ধারা ধরে রাখতে এস এম জহিরুল ইসলামের অবদান অনন্য।”
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের পথচলাঃ-১৯৯০ সালে বরিশালের মুলাদী উপজেলা থেকে সাংবাদিকতা জীবনের যাত্রা শুরু করেন এস এম জহিরুল ইসলাম। স্থানীয় ঘটনাপ্রবাহ,দুর্নীতি উন্মোচন এবং সামাজিক উন্নয়নভিত্তিক ধারাবাহিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে দ্রুতই তিনি পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৯২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁর উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠিত হয় মুলাদী প্রেসক্লাব,যা আজও জেলার,
সাংবাদিকতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ভূমিকা রেখে চলেছে।
১৯৯৪ সালে ঢাকায় এসে তিনি যোগ দেন জাতীয় ধারার,সাংবাদিকতায়। এর পর থেকে তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও টেলিভিশন মিডিয়ায় দায়িত্ব পালন করেন সুনামের সাথে।। সাংবাদিকতায় সততা, দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি তাঁকে পেশার অগ্রভাগে স্থান দিয়েছে।
বর্তমানে তিনি দৈনিক ঘোষণার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)–এর সিনিয়র সদস্য, এবং দেশের তৃণমূল সাংবাদিকদের সর্ববৃহৎ সংগঠন রুর্যাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ)–এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সিআরএ সম্মাননা পাওয়ার পর দেশের বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, সাংবাদিক সমিতি, সাংস্কৃতিক সংগঠন,কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগতভাবে অসংখ্য সম্পাদক–সাংবাদিক তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। অনেকেই বলেছেন—“তৃণমূল সাংবাদিকদের জন্য লড়াই করা মানুষের এমন স্বীকৃতি আমাদের গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করবে।”
চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের এই সম্মাননা কেবল একজন ব্যক্তির অর্জন নয়—এটি দেশের তৃণমূল সাংবাদিকতার বিকাশে দীর্ঘদিনের শ্রম, সততা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি বলেও মত দেন সংশ্লিষ্টরা।