নিখোঁজ কলেজছাত্রের লাশ মাটি খুঁড়ে উদ্ধার,দুই আসামি আটক।
যশোর জেলা প্রতিনিধি : একমাস আগে নিখোঁজ পল্লব শ্রাবন (১৭) নামে এক কলেজছাত্রে মরাদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার সন্ধ্যায় যশোর সদর উপজেলার জঙ্গলবাঁধাল গ্রামের একটি ঘরের মাটি খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পল্লবের দুইবন্ধুকে আটক এবং জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পল্লব সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের বিকাশের ছেলে।
কোতয়ালী থানার পরিদর্শক শেখ তাসমীম আলম জানান, গত ১৪ অক্টোবর নিখোঁজ হয় পল্লব। এ ঘটনায় থানায় একটি জিডি করা হয়েছিল। জিডির বিষয়টি তদন্ত করে পুলিশ। শনিবার সকালের দিকে পল্লবের দুইবন্ধু জঙ্গলবাঁধাল গ্রামের জামালউদ্দিনের ছেলে অপূর্ব এবং জগন্নাথপুর গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে ঈশানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সঞ্জিবকুমার মণ্ডল।
জিজ্ঞাসাবাদে অপূর্ব স্বীকার করে, পল্লবকে হত্যা করে তার নানা আজিজার রহমান মাস্টারের জঙ্গলবাঁধাল গ্রামের বাড়ির দক্ষিণপাশের একটি কাঁচাঘরের মধ্যে গর্ত খুঁড়ে সেখানেই পুঁতে রাখা হয়।
এঘটনায় জড়িত অভিযোগে অপূর্ব ও ঈশানকে আটক করা হয়েছে। এই হত্যা সম্পর্কে তাদের আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আর জিডির ঘটনাটি হত্যামামলা হিসাবে রেকর্ড করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিদর্শক তাসমীম আলম।
এদিকে, পল্লব হত্যা সম্পর্কে স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ১৩অক্টোবর সন্ধ্যার দিকে পল্লব একটি মেয়েকে সাথে নিয়ে তার বন্ধু অপূর্বের বাড়িতে যায়। অপূর্ব তার নানাবাড়িতে থাকে।
নানা-নানির অনুপস্থিতিতে সে রাতে তারা ওখানে অবস্থান করে। রাতে তাদের দুজনের শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও মোবাইলফোনে ধারণ করে অপূর্ব ও ঈশান। এরপর ভিডিও দেখিয়ে ব্লাকমেইল করার চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে অপূর্বের ছুরিকাঘাতে সে মারা গেলে তাকে পুঁতে ফেলা হয়। নিহত পল্লব ও তার বন্ধুরা সবাই যশোর সরকারি সিটি কলেজের ছাত্র।
তবে, পুলিশ পরিদর্শক তাসমীম আলম বলেন, কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। জিজ্ঞাসা বাদে আসামীদের স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে ১নং আসামী আলিফ আহম্মেদ ওরফে অপূর্ব এর বসত ঘরের উত্তর-পশ্চিম কোনে ড্রেসিং টেবিল এর নিচ থেকে পল্লব দত্ত ওরফে শ্রাবন (১৭) এর বস্তাবন্দি পচা-গলিত অবস্থায় লাশ এবং হত্যা কাজে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়। এ সংক্রান্তে কোতয়ালী মডেল থানার মামলা নং-২৪, তারিখ-১০/১১/১৯ খ্রিঃ ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পিসি রুজু করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন তদন্তশেষে বিষয়টি জানা যাবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনায় মা হারানো শিশু মাহিমার পড়ালেখাসহ ভবিষ্যতের সার্বিক বিষয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম।
বুধবার সকালে ঢাকার সিএমএইচে চিকিৎসাধীন শিশুটিকে দেখতে গিয়ে এই কথা জানান উপমন্ত্রী। শিশু মাহিমার বাড়ি শরীয়তপুরের সখিপুরে। উপমন্ত্রী শামীম ওই এলাকার এমপি।
গত রবিবার সিলেটে হযরত শাহজালাল (রা.) ও হযরত শাহপরানের (রা.) মাজার জিয়ারত করতে যান সখিপুরের বাসিন্দা মাইনুদ্দিনের জীবনের স্ত্রী কাকলি আক্তার, মেয়ে মাহিমা আক্তার, মামা জাহাঙ্গীর আলম, মামী আমাতন বেগম ও মামাতো বোন মরিয়ম। সোমবার সিলেট থেকে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে করে চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা হন তারা। চাঁদপুর থেকে ট্রলারে করে তাদের শরীয়তপুরের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু কসবায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় জীবনের স্ত্রী, মামি ও মামাতো বোন মারা গেলেও প্রাণে বেঁচে যান শিশু মাহিমা।
সকালে আহতদের দেখতে গিয়ে উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আহতদের মধ্যে সাতজনকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছে।
এ সময় শিশু মাহিমার দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানান। শামীম বলেন, ‘আহত শিশু মাহিমা তার মা হারিয়েছে, স্বজন হারিয়েছে। সে তার নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা। এজন্য তিনি শিশুটির সার্বিক দায়িত্ব নিয়েছেন। ভবিষ্যতে শিশু মাহিমার পড়ালেখাসহ সার্বিক বিষয়ে সহায়তা দেবেন তিনি।’
উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) শিপন শিকদার জানান, বুধবার সকালে সিএমএইচে শিশু মাহিমাকে দেখতে যান উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম। তিনি তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
শিপন শিকদার আরও জানান, শিশু মাহিমার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন উপমন্ত্রী। এছাড়া শিশুটির পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দেন এনামুল হক শামীম।
আরশিনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামছুজ্জোহা রতন জানান, শিশু মাহিমা রাজধানীর সিএমএইচে ভর্তি রয়েছে। তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন স্থানীয় এমপি ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম।
শক্তি বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছে সুপার সাইক্লোন ‘বুলবুল’। আবহাওয়ার সকল পূর্বাভাসকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রীতিমত বেপরোয়া আঘাত হানতে শুরু করেছে।
এদিকে, বুলবুলের প্রভাবে কলকাতার বাবুঘাটসহ রাজ্যটির দক্ষিণবঙ্গের একাধিক ফেরি পারাপার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ রয়েছে স্কুল-কলেজও। মৎসজীবীদের সমুদ্রে মাছ ধরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই রাজ্যের একজনের প্রাণহানি ঘটেছে। দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জে গাছ উপড়ে পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত ব্যক্তির নাম সোহেল শেখ (২৫)। জানা গেছে, বালিগঞ্জের একটি ক্লাবে রান্নার কাজ করতেন বিহারের বাসিন্দা সোহেল। ট্যাংরার বাসা থেকে কাজে যোগ দেওয়ার জন্য দুপুরে ওই ক্লাবে যাচ্ছিলেন। ক্লাবে প্রবেশের মুখেই বিপত্তি ঘটে। একটি গাছ ভেঙে পড়ে তার মাথায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় তৈরি রাজ্য প্রশাসনও। রাজ্য সরকারের সচিবালয় নবান্নে খোলা হয়েছে। সকাল থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যনার্জি পরিস্থিতির তদারকি করছেন এবং জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিচ্ছেন। উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে জারি করা হয়েছে চূড়ান্ত সতর্কতা। পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলবর্তী থেকে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৯ হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বুলবুল পরবর্তী বিপর্যয়কে এড়াতে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে ভারতীয় কোস্ট গার্ড সদস্যদের। পারাদ্বীপ, ধমরা, সাগরদ্বীপ উপকূল থেকে সমস্ত জাহাজকে নিরাপদ দূরতে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
টুইট করে মমতা জানান, ‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুল বাংলার ওপর দিয়ে অতিবাহিত করবে। আমাদের রাজ্য প্রশাসন চব্বিশ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছে। যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা সব রকমের পদক্ষেপ নিয়েছি। বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে।’ সেই সাথে মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে মানুষকে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে প্রশাসনকে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে কলকাতা নেতাজী সুভাষ চন্দ্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামীকাল রবিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
ইন্ডিয়ান এয়ারপোর্ট অথরিটির তরফে এক বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কার কারণে ৯ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১০ নভেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত বিমান পরিষেবা বন্ধ থাকবে।’
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর কারণে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে ৪নং সতর্ক সংকেত থাকায় আজ শুক্রবার টেকনাফ-সেন্টমার্টিন সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার ৩নং সংকেত ঘোষণার পর বিকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আশরাফুল আফসার পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে নোটিশ দেন।
জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় সেন্টমার্টিনে প্রায় ১২০০ পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ। তবে তারা নিরাপদ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ইউপি চেয়ারম্যান জানান, বৃহস্পতিবার বেড়াতে আসা পর্যটকদের অনেকে রাত্রিযাপনের জন্য থেকে গেছেন। হঠাৎ বৈরি আবহাওয়ায় জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ায় তারা আটকে গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, দুর্যোগ না কাটা পর্যন্ত তাদের পরিচ্ছন্নভাবে হয়রানি মুক্ত আতিথেয়তা দিতে হোটেল কর্তৃপক্ষকে বলা আছে। আমি নিজেই রাতে এবং সকালে হোটেলগুলোতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে পর্যটকদের আতংকিত না হতে আশ্বস্ত করেছি।
চেয়ারম্যান আরো বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপে ৫টি সাইক্লোন শেল্টার ও বহুতল কয়েকটি হোটেল রয়েছে। কঠিন দুর্যোগ বা জলোচ্ছ্বাস হলেও আটকে পড়া পর্যটকদের বিচলিত হবার কিছু নেই। সংকেত বাড়লে আমরা তাদের সেখানে এসব স্থানে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করব।
কেয়ারি সিন্দাবাদ ও ক্রুজের ইনচার্জ মো. শাহ আলম জানান, নৌপথে জাহাজ চলাচল স্থগিত করে দেয় প্রশাসন। শুক্রবার সকাল থেকে সংকেত বেড়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাই জাহাজ সেন্টমার্টিনের পথে যায়নি।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানায়, সাগরে এখন ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধসহ সমুদ্রের সব ধরনের নৌযানকে নিরাপদ আশ্রয়ে আসতে বলা হয়েছে।
ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে সারাদেশের শনিবারের (৯ নভেম্বর) জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ছোবল থেকে রক্ষা পেতে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার খাতা, প্রশ্নসহ যাবতীয় সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষাবোর্ডগুলো। সব সরঞ্জাম নিকটস্থ ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে বা বড় ভবনে সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। একাধিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যন ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দৈনিক শিক্ষাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার জেএসসি ও জেডিসির গণিত বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাবে সাতটি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো- খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও ভোলা।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন রাত সোয়া দশটার দিকে দৈনিক শিক্ষাকে বলেন, ‘সারাদেশের সব বোর্ডের জেএসসি ও জেডিসি পরীাক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো: কামাল উদ্দিন দৈনিক শিক্ষাকে বলেছেন, শনিবারের স্থগিত করা জেডিসি পরীক্ষাটি ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
অপরদিকে বরিশাল শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: ইউনুস বলেছেন, বরিশাল বোর্ডের অধীনে শনিবারের জেএসসি পরীক্ষাটি ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার গণিত পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।
আবহাওয়াা খবরে বলা হয়, শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে বুলবুল বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটার এলাকায় বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত করলে ৫ থেকে ৭ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।
এদিকে বুলবুলের প্রভাবে মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৭ নম্বর এবং চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে কক্সবাজারে ৪ নম্বর সংকেত অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসায় সারাদেশে সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআইডব্লিউটিএ। সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন মজুমদার এ ঘোষণা দেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সবশেষ বুলেটিনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬২০ কিমি. দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৮৫ কিমি. দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৯৫ কিমি. দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৯০ কিমি. দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর/উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শনিবার (০৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূল (সুন্দরবনের কাছ দিয়ে) অতিক্রম করতে পারে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় শনিবার ভোর থেকে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিমি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিমি., যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিমি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ও মুন ফেজ এর প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিন্মঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৭ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা
প্রধান উপদেষ্টাঃ রিন্টু চৌধুরী
সম্পাদক- মোঃ আজিজুল ইসলাম আজিজ 01719-076924,
নির্বাহি সম্পাদক -মোঃ রফিকুল ইসলাম 01717-656705fÐd¡e L¡k¡Ñmu
¢jlf¤l-13,Y¡L¡
ফোনঃ 01827-656705 ইমেইলঃ anusondan2@gmail.com
