ইপিজেডে ফের উচ্ছেদ ওসমানের জুয়ার ঘর পুলিশের অভিযানে ৬ জুয়াড়ি গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৩৩ হাজার ৯০০ টাকা

বিশেষ প্রতিবেদক, চট্টগ্রামঃ
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯ বার পঠিত

 

চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানাধীন দক্ষিণ হালিশহরের আকমল আলী খালপাড় এলাকায় ফের গড়ে ওঠা জুয়ার আস্তানা উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চসিকের সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রনয় চাকমার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জুয়া ও মাদক সেবনের জন্য ব্যবহৃত অস্থায়ী টিন-বাঁশের ঘরটি সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয়। অভিযানে ইপিজেড থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে।

পুলিশের প্রেস রিলিজে বলা হয়, নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আকমল আলী পকেট গেট খালপাড় এলাকায় প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পরিত্যক্ত ডোবার ওপর টিন ও বাঁশের খুঁটি দিয়ে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে টাকা দিয়ে জুয়া খেলা ও মাদকের আসর বসানোর অভিযোগ রয়েছে ওসমান গনি (৩২) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তার পিতা অজ্ঞাত। স্থায়ী ঠিকানা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-৪৩৩১ এলাকার ফতেপুর ইউনিয়নের পশ্চিম পট্টি, হাটহাজারী; বর্তমানে আকমল আলী পকেট গেট খালপাড় এলাকায় বসবাস করেন বলে প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত ৩ জুন ২০২৬ বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রনয় চাকমার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই জুয়ার ঘরে অভিযান চালিয়ে সেটি ভেঙে দেয়। ওই ঘটনায় ওসমান গনির নামে মামলা করা হয়। এরপর কিছুদিন জুয়ার আসর বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি নতুন করে আস্তানা গড়ে তোলার অভিযোগ ওঠে।

পুলিশ জানায়, দক্ষিণ হালিশহরের আকমল আলী খালপাড়ের সিডিএ বালুর মাঠের উত্তর পাশে গহীন আমবাগানের জঙ্গলের মধ্যে ওসমান নতুন করে অস্থায়ী খোলা টংঘর নির্মাণ করে জুয়া ও মাদক সেবনের আসর বসাচ্ছেন—এমন গোপন সংবাদ পায় পুলিশ।

সংবাদের ভিত্তিতে গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইপিজেড থানার এসআই (নিঃ) আবু বকরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় জুয়ার আসর থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ১৫ প্যাকেট তাস ও নগদ ৩৩ হাজার ৯০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় মামলা নং-০১, তারিখ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। মামলায় জুয়া প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ১৫, ১৮ ও ২৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য, অভিযানের পর জুয়ার আস্তানার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা পুলিশের তৎপরতা ঠেকাতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বনের চেষ্টা করে। জুয়ার ঘরে যাওয়ার পথে দুই স্থানে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি এবং রাস্তায় কাঁটা ফেলে পুলিশের চলাচলে বাধা দেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়। তবে এসব কৌশল পুলিশের অভিযান ঠেকাতে পারেনি।

পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, দুর্গম ওই স্থানে দীর্ঘদিন ধরে জুয়া ও মাদকের আসর বসায় স্থানীয় যুবসমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। একই সঙ্গে আশপাশে বসবাসরত সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছিল। একাধিকবার অভিযান চালিয়ে জুয়াড়ি ও মাদকসেবীদের গ্রেপ্তার করা হলেও কিছুদিন পর আবারও নতুন করে আসর বসানো হতো।

এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা জুয়ার ঘরটি স্থায়ীভাবে অপসারণের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিষয়টি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে আবাসিক এলাকায় জুয়া ও মাদককেন্দ্রিক এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্দেশে সোমবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে সিটি করপোরেশনের সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রনয় চাকমার নেতৃত্বাধীন টিমকে ইপিজেড থানার এসআই (নিঃ) মো. মামুনুর রশিদ, এসআই (নিঃ) মো. কামরুজ্জামান এবং থানা এলাকায় মোবাইল-৫১ ডিউটিতে নিয়োজিত অফিসার ও ফোর্স প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন।

অভিযান শেষে জুয়া ও মাদক সেবনের কাজে ব্যবহৃত অস্থায়ী ঘরটি সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও ইপিজেড থানা পুলিশের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, জুয়ার আস্তানা অপসারণের ফলে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু আস্তানা উচ্ছেদ নয়—জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে ইপিজেড থানা পুলিশের নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকলে এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর