অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন-এর বিশেষ প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান শফিক-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলা প্রত্যাহার এবং তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা বলেন, সত্য উদঘাটনের পথ রুদ্ধ করতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের প্রবণতা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করে হাফিজুর রহমান শফিককে স্ব-সম্মানে মুক্তি দেওয়া না হলে দেশব্যাপী কঠোর সাংবাদিক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৩টায় নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন ঐতিহাসিক টাইগার পাস চত্বরে ইউনাইটেড প্রেসক্লাব চট্টগ্রাম-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি শিব্বির আহমেদ ওসমান-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম-এর সঞ্চালনায় আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউনাইটেড প্রেসক্লাব চট্টগ্রামের উপদেষ্টা নুরুল আবছার তৌহিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনাইটেড প্রেসক্লাব বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ফৌজুল আজাদ চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ আরেফীন। কর্মসূচিতে চট্টগ্রামে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, সাংবাদিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং মানবাধিকার কর্মীরা সংহতি প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথি নুরুল আবছার তৌহিদ বলেন, কোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিরপেক্ষ তদন্তের পরিবর্তে একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা স্বাধীন সাংবাদিকতা, বাকস্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা বহন করে। তিনি বলেন, হাফিজুর রহমান শফিককে গ্রেপ্তারের ঘটনা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধের শামিল।
প্রধান বক্তা সোহাগ আরেফীন বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের প্রশাসনিক অনিয়ম এবং কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তথ্য-উপাত্তভিত্তিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়। তিনি জানান, গত ২১ জুলাই শাহবাগ থানার এসআই জিয়াউল-এর নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল তাঁকে মগবাজার এলাকা থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশি হেফাজতে তাঁকে অপমান, গালিগালাজ এবং মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নিরপেক্ষ তদন্তের পরিবর্তে মামলা ও গ্রেপ্তারের পথ বেছে নেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য অশনি সংকেত। এ ধরনের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা মারাত্মকভাবে নিরুৎসাহিত হবে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে।
সভাপতির বক্তব্যে শিব্বির আহমেদ ওসমান বলেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য নিয়ে আপত্তি থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা উচিত ছিল। কিন্তু তদন্তের আগেই একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা কতটা আইনসম্মত, যৌক্তিক ও ন্যায়সংগত—সে প্রশ্ন এখন জনমনে দেখা দিয়েছে।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড প্রেসক্লাব চট্টগ্রামের সহ-সভাপতি জামাল চৌধুরী বিপ্লব, সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম মিজান উল্লাহ সমরকান্দী, বাংলাদেশ সাংবাদিক ইউনিয়ন সংস্থার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি কেএম রুবেল, একাত্তর সংবাদ-এর সম্পাদক সুমন সেন, আজকের মানব সময় পত্রিকার সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন বাহার, এসটিভি-র প্রধান সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, চৌকষ পত্রিকার ব্যুরো প্রধান শাহীন আহমেদ, সংবাদ সংযোগ পত্রিকার ব্যুরো প্রধান জহিরুল ইসলাম, ইউনাইটেড প্রেসক্লাব চট্টগ্রামের যুগ্ম সম্পাদক মো. সেলিম উদ্দিন, কবির আহম্মেদ মানিক, ইমাম হোসেন জীবন, দপ্তর সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, মর্নিং পোস্ট-এর জেলা প্রতিনিধি মো. অলিউল্লাহ চৌধুরী, সাংবাদিক রোকন উদ্দিন জয়, মানবাধিকার নেতা এস এম শামসুল হক, সাংবাদিক সালাউদ্দিন সোলায়মান, রাহাত খান, রাজীব দাশ, এম ইউছুফ, এস এম মইনুদ্দিন, মুহাম্মদ সোলাইমান, গাজী নুরুল হক শাহ, মোহাম্মদ রুবেল, সাইদ নুর (রাসেল), মোহাম্মদ হাসান, মোহাম্মদ শওকত হোসেন, মো. সোহেল রানা, রিয়াজ উদ্দিন, মিজানুর রহমান, সোলাইমান, এবিএম জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার, মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, শওকত হোসেন, আরিফুল ইসলাম, মো. হায়দার জীবন, তামান্না বিনতে শুভ নাহা, মিজানুর রহমান, বিবি কুলসুম, ওমর ফারুক, ইমতিয়াজ হামীম, সোহেল রানা, ফারুক আহমেদসহ আরও অনেকে।