চট্টগ্রামে সোয়া লাখের বেশি মাদকাসক্ত, চিকিৎসা শয্যা অপ্রতুল—সরকারি ও বেসরকারি নিরাময় সেবা সম্প্রসারণের দাবি।
চট্টগ্রামে ক্রমবর্ধমান মাদকাসক্তির ভয়াবহতা মোকাবিলায় সরকারি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে ইনফো বাংলার উদ্যোগে আয়োজিত এক মাদকবিরোধী সভা থেকে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নগরীর সিআরবি তাসফিয়া গার্ডেনে অনুষ্ঠিত এ সভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, মনোবিজ্ঞানী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম উত্তর বিভাগের উপপরিচালক (ডিডি) সিরাজুল মোস্তফা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দৈনিক পূর্বকোণের সাবেক বার্তা সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের মুহাম্মদ, দৈনিক পূর্বদেশের সহযোগী সম্পাদক ও অপর্ণাচরণ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যাপক আবু তালেব বেলাল, ফ্যাশন ডিজাইনার রওশন আরা চৌধুরী এবং ছোবানিয়া আলিয়া মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ।
বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামে আনুমানিক সোয়া লাখের বেশি মানুষ মাদকাসক্ত হলেও চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় শয্যাসংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। ফলে অসংখ্য মানুষ সময়মতো চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা প্রতিটি বিভাগে আধুনিক সরকারি মাদক নিরাময় হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, বিদ্যমান সরকারি ও বেসরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান।বক্তারা আরও বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজকে সম্পৃক্ত করে মাদকের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা ও প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।সভায় গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের অপরাধী নয়, বরং চিকিৎসাপ্রার্থী হিসেবে দেখার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তাদের পরিচয়, ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে, যাতে তারা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন না হন এবং চিকিৎসা গ্রহণে নিরুৎসাহিত না হন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইনফো বাংলা ও ডেইলি মর্নিং টুডের প্রকাশক ও সম্পাদক কল্যাণ চক্রবর্তী।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইনফো বাংলা ও ডেইলি মর্নিং টুডের নির্বাহী সম্পাদক আলী আহমেদ শাহীন, ডেপুটি এডিটর শামসুল হুদা মিন্টু, সহযোগী সম্পাদক এস. এম. আহসানুল কবির চৌধুরী টিটু, সিটি এডিটর রাসেল দাশ, সিনিয়র রিপোর্টার মশিউর রহমান নয়ন,সহযোগী সম্পাদক সাজিয়া আফরিন লাকী,সাব-এডিটর সৌমেন সরকার ও এনি বিশ্বাস, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রাইছা হাসান, শর্মিষ্ঠা ভট্টাচার্য, আবু সাইদ, আইবিএনএ ও ইনফো বাংলার রিপোর্টার টিপু সুলতান এবং সিনিয়র সাংবাদিক ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য রবি শংকর চক্রবর্তী সহ প্রমুখ।এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মোছাম্মৎ সাজেদা আমিন চৌধুরী, মনোবিজ্ঞানী সানজিদা নাছরিন, হুমাইরা আক্তার, বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা এনি আরিয়ান, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী ও টিভি উপস্থাপক আঁখি দৃষ্টি, এলআরবি ব্যান্ডের সদস্য গোলামুর রহমান রোমেলসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হেল্পের পরিচালক মোরশেদ আলম শিপন, অঙ্কুরের পরিচালক মঞ্জুর হোসেন পিন্টু, আর্কের দিদারুল ইসলাম, শুকতারার রূপতনু কর পমি, আভার শাহাদাৎ দস্তগীর, ফেয়ার লাইফের সাজ্জাদ হোসেন ও মো. মুন্না, দীপের মো. ফয়েজ, স্রোতের মো. লিটন, দৃষ্টির পরিচালক জাহেদ হাসান প্লাবন, আলোর সহপরিচালক মো. শাহ জামান, এলার্টের মো. শাকিল ও লিংকন বড়ুয়া এবং প্রশান্তির পরিচালক সাইফুদ্দিন লাভলুসহ বিভিন্ন পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালকরা।সভার শেষাংশে বক্তারা মাদকের বিরুদ্ধে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম, চিকিৎসক, পুনর্বাসন কেন্দ্র, পরিবার ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, মাদকমুক্ত চট্টগ্রাম ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এখনই কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই।