পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাঁশখালীতে ৪২০ পরিবার পেল নগদ সহায়তা
বিশেষ প্রতিবেদকঃ
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা ৪২০টি অধিক বিপদাপন্ন পরিবারকে দুর্যোগের আগেই প্রস্তুতি নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯০ পরিবার বিকাশের মাধ্যমে এবং ৩০ পরিবার সরাসরি নগদ অর্থ পেয়েছে। নির্বাচিত প্রতিটি পরিবারকে দেওয়া হয়েছে ৬ হাজার টাকা করে।
সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের হিউম্যানিটারিয়ান ফান্ডের উদ্যোগে এবং ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)-এর সহায়তায় বাস্তবায়িত ‘অ্যান্টিসিপেটরি এ্যাকশন ট্রিগার-বেইজড পাইলট-২০২৬’ প্রকল্পের আওতায় এ সহায়তা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস ও পূর্বনির্ধারিত ট্রিগার পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া, সাধনপুর, কালিপুর ও বৈলছড়ি ইউনিয়নের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সহায়তার জন্য নির্বাচন করা হয়।
উপকারভোগী নির্বাচনে স্টার্ট নেটওয়ার্কের কমন বেনিফিশিয়ারি ডাটাবেইজের তথ্যের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। পরিবারের ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করে চূড়ান্তভাবে ৪২০টি পরিবার নির্বাচন করা হয়।
এ উপলক্ষে বাঁশখালী উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে প্রকল্পের উদ্যোগে একটি অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। সভায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, দুর্যোগের আগে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর হাতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হলে তারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী আগাম প্রস্তুতি নিতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ধস ও অতিবৃষ্টির মতো দুর্যোগে পূর্বপ্রস্তুতি জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উপকারভোগী নির্বাচন, যাচাই-বাছাই ও সহায়তা প্রদানে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ ও প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছে।
ইপসার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ফোকাল সানজিদা আক্তার বলেন, প্রচলিত দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তার পাশাপাশি দুর্যোগের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই অ্যান্টিসিপেটরি এ্যাকশনের মূল উদ্দেশ্য। পূর্বাভাসের ভিত্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও আগাম পদক্ষেপের মাধ্যমে মানুষের জীবন, সম্পদ ও জীবিকার ওপর দুর্যোগের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব কমানো সম্ভব।
ইপসার অ্যান্টিসিপেটরি এ্যাকশন ট্রিগার-বেইজড পাইলট-২০২৬ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন বলেন, নগদ সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয়, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের তথ্য যাচাই, পূর্বাভাস পর্যবেক্ষণ এবং দুর্যোগের আগে করণীয় বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পরবর্তী পর্যায়ে পোস্ট-ডিস্ট্রিবিউশন মনিটরিং (পিডিএম) ও লেসন-লার্ন্ড কার্যক্রমের মাধ্যমে উদ্যোগটির কার্যকারিতা ও অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করা হবে।
পূর্বাভাসনির্ভর আগাম ব্যবস্থা
প্রচলিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সাধারণত দুর্যোগ সংঘটিত হওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানো হয়। এর বিপরীতে অ্যান্টিসিপেটরি এ্যাকশন হলো পূর্বাভাসনির্ভর একটি আগাম ব্যবস্থা। সম্ভাব্য দুর্যোগের পূর্বাভাস এবং পূর্বনির্ধারিত ঝুঁকি-সূচক বা ট্রিগার সক্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই নির্ধারিত অর্থ ও কার্যক্রমের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সময়মতো নগদ সহায়তা পেলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো দুর্যোগের আগে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ কিংবা ঘরবাড়ি ও জীবিকার সম্পদ সুরক্ষিত করার মতো জরুরি প্রস্তুতি নিতে পারে। ফলে দুর্যোগের পর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার পাশাপাশি আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।