পেশাগত অঙ্গনে দু’পক্ষের সম্পর্ক যেখানে দায়িত্ব, তথ্য ও জনস্বার্থকে ঘিরে; সেখানে বুধবার বিকেলে সেই সম্পর্কই নতুন মাত্রা পেল ফুটবল মাঠে। দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের মাঠে মুখোমুখি হয়েছিল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই শেষে ৩-০ গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছে সিএমপি ফুটবল দল।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দামপাড়া পুলিশ লাইন্স মাঠে অনুষ্ঠিত এ প্রীতি ফুটবল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
শুরু থেকেই ম্যাচে ছিল উত্তেজনা। বল দখল, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ আর গোলের সুযোগ তৈরির মধ্য দিয়ে দুই দলের খেলোয়াড়রা মাঠ মাতিয়ে রাখেন। ক্রীড়াসুলভ প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই নিজেদের নৈপুণ্য ও দলীয় সমন্বয়ের প্রমাণ দেন খেলোয়াড়রা।
তবে গোল আদায়ে এগিয়ে যায় সিএমপি। একের পর এক আক্রমণ সাজিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করে তারা। শেষ পর্যন্ত তিনবার বল জালে জড়িয়ে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় সিএমপি ফুটবল দল। বিপরীতে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের খেলোয়াড়রা গোলের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালালেও ব্যবধান কমাতে পারেননি। ফলে ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সিএমপি।
খেলার শুরুতে প্রধান অতিথি সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীসহ উপস্থিত অতিথিরা দুই দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এতে আয়োজনের শুরুতেই সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ আয়োজনের তাৎপর্য শুধু মাঠের ৯০ মিনিটের প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ নয়। পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ঘটনায় পাশাপাশি কাজ করেন। খেলাধুলার মতো অনানুষ্ঠানিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আয়োজন দুই পক্ষের পারস্পরিক সম্পর্ক, সহযোগিতা ও বোঝাপড়া আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ম্যাচ শেষে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিরা খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় খেলাধুলার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ; উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. ফেরদৌস আলী চৌধুরী, বিপিএম (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত); উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান প্রাং (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত); উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) নেছার উদ্দিন আহম্মেদ, পিপিএম (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত)সহ সিএমপির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, উপদেষ্টা ওসমান গণি মনসুর, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদসহ খেলায় অংশগ্রহণকারী গণমাধ্যমকর্মী, সিএমপি ফুটবল টিম এবং ম্যাচ পরিচালনাকারী সদস্যরা।
মাঠের লড়াইয়ে সিএমপির জয় হলেও আয়োজনের মূল সাফল্য ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। পুলিশ ও গণমাধ্যমের পেশাগত সম্পর্কের পাশাপাশি এমন আয়োজন ভবিষ্যতে দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থার বন্ধন আরও দৃঢ় করবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।