কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব নির্বাচনে সাগর সভাপতি- ডাবলু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলার প্রতিনিধি।।
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২১
  • ৪০ বার পঠিত

 

জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শান্তিপূর্ণভাবে কুষ্টিয়া ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে দৈনিক জয়যাত্রা সম্পাদক ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি আল-মামুন সাগর সভাপতি এবং দৈনিক আন্দোলনের বাজার সম্পাদক ও চ্যানেল আই কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি আনিসুজ্জামান ডাবলু সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার (০৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের হলরুমে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়।

উক্ত নির্বাচনী ফলাফল রাত ৮ ঘটিকার সময় ঘোষনা করেন, নির্বাচন কমিশনার কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার সুখেন কুমার পাল। এসময় কুষ্টিয়া জেলা পরিসংখ্যানের উপপরিচালক আব্দুল আলীম উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনে বিজয়ী অন্য প্রার্থীরা হলেন, সহ-সভাপতি- নুরুন্নবী বাবু (সম্পাদক দৈনিক সময়ের কাগজ) ও ডা: গোলাম মওলা (সম্পাদক সাপ্তাহিক রবি বার্তা)। যুগ্ম-সম্পাদক- আবু মনি জুবায়েদ রিপন ( সম্পাদক দৈনিক কুষ্টিয়ার খবর ও দৈনিক যুগান্তর জেলা প্রতিনিধি) ও পি.এম. সিরাজুল ইসলাম (সম্পাদক দৈনিক ইন্টারন্যাশনাল ও দি ডেইলী অবজারভার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি)। দপ্তর সম্পাদক- নাহিদ হাসান তিতাস (সম্পাদক দৈনিক সময়ের দিগন্ত)। কোষাধ্যক্ষ- এম লিটন-উজ-জামান (বাংলা টিভি ও আমাদের নতুন সময় কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি)। প্রচার প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক- তৌহিদী হাসান সিপলু ( দৈনিক প্রথম আলো (নিজস্ব প্রতিনিধি)। ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক- নিজাম উদ্দিন ( দেশ টিভি কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি)।

নির্বাহী সদস্য- আব্দুর রশিদ চৌধুরী (সম্পাদক দৈনিক বাংলাদেশ বার্তা), জহুরুল ইসলাম (একুশে টেলিভিশন কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি), আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু (সম্পাদক দৈনিক হাওয়া ও মাই টিভি কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি), চৌধুরী মুরশেদ আলম মধু (সম্পাদক দৈনিক মুক্তমঞ্চ), হাসান আলী (বাংলা ভিশন টিভি ও দৈনিক দেশ রুপান্তর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি), আহসান আলী বিশ্বাস (নবচেতনা কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি), ইব্রাহীম হোসেন মেরাজ (সম্পাদক দৈনিক জন মতামত), দেলোয়ার মানিক (বাংলাদেশ বেতার ও দৈনিক মানবজমিন কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি), সামসুন্নাহার কথা (ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দৈনিক সাগরখালী)।

কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে মোট ১০৬ জন ভোটারের মধ্যে ১০৫ জন ভোটার তাদের পচ্ছন্দের প্রার্থীদের ভোট প্রদান করেন। নির্বাচনে আল মামুন সাগর ও মজিবুল শেখ এবং গাজী মাহাবুব রহমান ও আনিসুজ্জামান ডাবলু দুটি প্যানেলে বিভক্ত হয়ে ১৯টি পদের বিপরীতে ৩৮ জন প্রার্থী অংশ গ্রহন করেন। এতে উভয় প্যানেল থেকে ১৯ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়। সাগর মজিবুল প্যানেল থেকে ১১ জন প্রার্থী জয় লাভ করেন, ওর দিকে গাজী মাহবুব ডাবলু প্যানেল থেকে ৮ জন প্রার্থী জয়লাভ করেন। সু-শৃংখলার সাথে দিনব্যাপী ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ছিলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এক নজরে প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট, নির্বাচিত সভাপতি আল-মামুন সাগর পেয়েছেন ৫৬ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী গাজী মাহাবুব রহমান পেয়েছেন ৪৯ ভোট। নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু পেয়েছেন ৫৫ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী মজিবুল শেখ পেয়েছেন ৪৮ ভোট। নির্বাচিত সহ-সভাপতি নুরুন্নবী বাবু ৫৫ ভোট ও ডা: গোলাম মওলা ৫২ ভোট এবং প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী লুৎফর রহমান কুমার ৫১ ও সাবিনা ইয়াসমিন শ্যামলী ৪৮ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচিত যুগ্ম সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন ৫৭ ভোট ও পি.এম সিরাজুল ইসলাম ৫৩ ভোট এবং প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী শরিফ বিশ্বাস ৪৮ ভোট ও রবিউল ইসলাম দোলন ৪১ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ এম লিটন উজ্জামান ৫৮ ভোট ও প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী দেবাশীষ দত্ত ৪৪ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচিত প্রচার প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক তৌহিদ হাসান সিপলু ৫৩ ভোট ও প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী এনামুল হক ৫০ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচিত ক্রীড়া ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ৫৪ ভোট ও প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী মোকাদ্দেস হোসেন সেলিম ৫১ ভোট পেয়েছেন।

নির্বাচিত নির্বাহী সদস্য পদে বিজয়ীদের প্রাপ্ত ভোট আব্দুর রশিদ চৌধুরী ৬৪ ভোট, জহুরুল ইসলাম ৫৯ ভোট (টচে প্রথম) , আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু ৫৯ ভোট (টচে ২য়), চৌদুরী মুরশেদ আলম ৫৫ ভোট, হাসান আলী ৫৩ ভোট, আহসান আলী বিশ্বাস ৫১ ভোট (টচে প্রথম) , ইব্রাহীম হোসেন মিরাজ ৫১ ভোট (টচে ২য়), দেলোয়ার মানিক ৫১ ভোট (টচে ৩য়) ও সামসুন্নাহার কথা ৫০ ভোট পেয়েছেন এবং তার প্রতিদ্বন্দি নির্বাহী সদস্য প্রার্থী এস এম রাশেদ ৫০ ভোট পেয়ে টচে পরাজিত হয়েছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়