মেহেরপুরের গাংনীতে ২ কিশোরকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পাবজি খেলা নিয়ে বন্ধুকে হত্যা

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৬ বার পঠিত

 

পাবজি ও ফ্রি ফায়ার খেলাকে কেন্দ্র করে মেহেরপুরের গাংনীতে স্কুলছাত্র আবির হত্যা মামলায় তার দুই বন্ধুর মধ্যে একজনকে ১০ বছর এবং অন্যজনকে সাত বছর সাজা দিয়েছে আদালত।

এ ছাড়া রায় ঘোষণার সময় ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেমের সব ধরনের অ্যাপস অপসারণের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-বিটিআরসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার বিকালে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ দুই আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।

মামলা থেকে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৬ জুন উপজেলার মিনাপাড়া গ্রামের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আবির তার পাবজি গেমের পাসওয়ার্ড দিতে না চাইলে তারই দুই বন্ধু তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখে। সেখানে নির্যাতন শেষে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

মৃত্যু নিশ্চিত করতে প্যান্টের বেল্ট খুলে আবিরের গলায় ফাঁস দেওয়া হয়। পরে লাশ পাশের পাটক্ষেতে নিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এরপর আবিরের মোবাইল থেকে তার মালয়েশিয়া প্রবাসী বাবার ইমোতে ফোন দিয়ে হিন্দি ভাষায় এক লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়।

পরে স্বজনরা বিষয়টি ৯৯৯-এ জানালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আবিরের দুই বন্ধুকে আটক করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাশের মানিকদিয়া গ্রামের একটি পাটক্ষেত থেকে আবিরের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় আবিরের মা রোজিনা খাতুন গাংনী থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে গ্রেপ্তার দুই কিশোর আদালতে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

মামলায় ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিদের মধ্যে একজনকে ১০ বছর এবং অন্যজনকে সাত বছর কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় বলে জানান পিপি মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।

জরিমানার অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারের হাতে তুলে দিতে মেহেরপুর জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী। তিনি বলেন, শিশু আইনে এটাই সর্বোচ্চ সাজা।

এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবিরের মা রোজিনা খাতুন। রায় শুনে আদালত চত্বরে অশ্রুসিক্ত অবস্থায় তিনি বলেন, আবির ছিল তার একমাত্র সন্তান। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব পরীক্ষায় প্রথম ছিল আবির। এ ঘটনায় তিনি শুধু আদরের একমাত্র সন্তানকেই হারাননি, সংসারও হারিয়েছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর