কুড়িগ্রামে অতি বৃষ্টিতে জলে তলিয়ে গেছে কৃষকের পাকা ধান

নয়ন দাস,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।।
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ মে, ২০২২
  • ১৪৩ বার পঠিত

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে মাদাইডাঙ্কার বিলে অতি বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের পাকা ধান।এতে ওই বিলের প্রায় ৭০০ একর জমির একমাত্র ফসল বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন ১ হাজার ৬০০ কৃষক। এই বিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে না পারলে ভেস্তে যাবে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন। দ্রুত পানি নিষ্কাশনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান ভুক্তভোগী কৃষকেরা।

 

এ বিষয়ে উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম কাজল বলেন,উপজেলার দাঁতভাঙা, শৌলমারী ও বন্দবেড় ইউনিয়নের আওতায় মাদাইডাঙ্কার বিলে ১ হাজার ৬০০ কৃষকের প্রায় ৭০০ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২২২ একর জমিতে সারা বছর পানি জমে থাকে। বিলটি শৌলমারী ইউনিয়নের বড়াইকান্দির পুড়ারচর গ্রাম থেকে উত্তরে উজান ঝগড়ারচর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এবং দাঁতভাঙা ইউনিয়নের ঝগড়ারচর গ্রাম থেকে বন্দবেড় ইউনিয়নের টাংগাড়িপাড়া গ্রাম পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার বিস্তৃত। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়,উপজেলার দাঁতভাঙা ইউনিয়নের ঝগড়ারচর কুড়ার মোড় থেকে উজান ঝগড়ারচর সড়ক হয়ে বন্দবেড় ইউনিয়নের টাপুরচর সড়কের পূর্ব দিকে ও শৌলমারী ইউনিয়নের বড়াইকান্দি থেকে টাপুরচর সড়কের উত্তরের এলাকা পর্যন্ত মাদাইডাঙ্কার বিলের বিস্তার।

 

 

 

বিলটির আংশিক এলাকায় জলাশয়ে মাছের ঘের তৈরি করা হয়েছে। বেশির ভাগ জমিতে চাষ করা হয়েছে বোরা ধান। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে বিলের অনেক জায়গায় বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। দাঁতভাঙা ইউনিয়নের ঝগড়ারচর গ্রামের আনিছুর রহমান বলেন,মাদাইডাঙ্কার বিলে তাদের ১০ বিঘা জমি রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে বোরো ধানের আবাদ করা হয় ওই জমিতে। সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে জমির ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক সময় ধান ঘরে তুলতে পারলেও পানিতে নষ্ট হওয়ায় ফলন কম হয়। একই গ্রামের কৃষক আমির হোসেন তিনিও বলেন,ওই বিলে তাদের চার বিঘা জমি রয়েছে। ওই জমিতে বোরো ধান ছাড়া কোনো কিছু আবাদ করা সম্ভব হয় না। কারণ প্রায় সারা বছর ওই বিলে পানি জমে থাকে। সরকার যদি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে, তাহলে এই জমিগুলোতে তিন-চারটি ফসল চাষ করা সম্ভব।

 

 

 

পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি। এ ছাড়া মাদাইডাঙ্কার বিলে জমি আছে এমন কৃষক ফকরুল মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হানিফ, শহিদুল ইসলাম, শাহালম, আব্দুল মালেক, রহিজ উদ্দিন, গোলাম শহিদ, অমির হামজাসহ অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাদাইডাঙ্কার বিল জলাবদ্ধ হয়ে থাকে। এতে বিপাকে পড়তে হয় হাজারো কৃষককে। অন্য জমিতে বছরে চার থেকে পাঁচটি ফসল চাষ করা গেলেও বঞ্চিত হচ্ছেন এই বিলে জমি থাকা কৃষকেরা। সরকারি উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে খাদ্য উৎপাদনে সরকারকে পাশে থাকার আহ্বান জানান ভুক্তভোগী কৃষকেরা। দাঁতভাঙা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সামিউল ইসলাম জীবন জানান,‘মাদাইডাঙ্কার বিলে প্রায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি ক্যানেল তৈরি করতে হবে। ক্যানেলটি ঝগড়ারচর গ্রামের দক্ষিণ মাথা থেকে শুরু করে পুরারচর হয়ে টাপুরচর এলাকার সোনাভরী নদীতে গিয়ে পড়বে। তাহলে এই বিলের পুরো এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব হবে।

 

 

 

দাঁতভাঙা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান,‘পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় যুগ যুগ ধরে জলাবদ্ধতার কারণে অনাবাদি থেকে যাচ্ছে এই বিলের জমিগুলো। বিষয়টি নিরসনের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তাঁরা (কৃষি কর্মকর্তা) সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেবেন।’ রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরী বলেন,বিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে পারলে বোরো ও আমন ধানের আবাদ করা যাবে। বিলটির মাটির নিচ দিয়ে ড্রেন, ক্যানেল বা পাইপের মাধ্যমে পানি নদীতে ফেলতে পারলে এর জলাবদ্ধতা দূর হবে। এ কাজ আমাদের দপ্তরের নয়। এসব কাজ উপজেলা পরিষদের সেচ ও পুনর্বাসন কমিটি করে থাকে। আগামী মাসিক সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়