চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনের প্রতিবাদ: সচেতন নাগরিকদের বক্তব্য

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
  • ২৭ বার পঠিত

 

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) বাস্তবায়নাধীন “চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার হতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ” (শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) প্রকল্প সম্পর্কে সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদন আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রকল্পটি সম্পর্কে যে নেতিবাচক, বিভ্রান্তিকর ও একপেশে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা বাস্তব পরিস্থিতি ও সাধারণ নগরবাসীর অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমরা সচেতন নাগরিক হিসেবে এসব প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে।

আমাদের বক্তব্য নিম্নরূপ—

১.যানজট ও ভোগান্তি নিরসনে কার্যকর ভূমিকা:

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কার্যকারিতা নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তা বাস্তবতার প্রতিফলন নয়। প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর পতেঙ্গা, বিমানবন্দর ও কর্ণফুলী টানেলমুখী যাতায়াতে সময় ও দুর্ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দীর্ঘ সময়ের যানজট থেকে নগরবাসী এখন অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছে, যা প্রতিদিনের ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় প্রতিফলিত হচ্ছে।

২.র‍্যাম্প ও নকশা নিয়ে সমালোচনা বাস্তবসম্মত নয়:

প্রতিবেদনে এক্সপ্রেসওয়ের র‍্যাম্পের অবস্থান ও নকশা নিয়ে যে সমালোচনা করা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। চট্টগ্রাম মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও যোগাযোগ কেন্দ্রগুলোকে সংযুক্ত করার লক্ষ্যেই পরিকল্পনাটি গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই অবকাঠামো নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

৩.সাময়িক দুর্ভোগকে পুঁজি করে প্রকল্পকে প্রশ্নবিদ্ধ করা অনুচিত:

যেকোনো বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সাময়িক কিছু জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেই সাময়িক অসুবিধাকে কেন্দ্র করে একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্পকে ব্যর্থ বা ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে উপস্থাপন করা দুঃখজনক, অনভিপ্রেত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই প্রতীয়মান হয়।

৪.টোল ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন:

টোল আদায়ে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

উল্লেখ্য, প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনবিশিষ্ট মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি ২০২৫ সালের ৩ জানুয়ারি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় এবং যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

টোল আদায়ে ব্যবহৃত সফটওয়্যার যথাযথভাবে চউকের সিস্টেম এনালিস্টের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে এবং টোল কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জনবল সরবরাহ করে টোল আদায় পরিচালিত হচ্ছে এবং চউকের চেয়ারম্যান, সচিব ও সিস্টেম এনালিস্টের তত্ত্বাবধানে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আদায়কৃত টোলের অর্থ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি’র মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় ৮,৭০০টি যানবাহন এক্সপ্রেসওয়েটি ব্যবহার করছে এবং প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬ লাখ ১৬ হাজার টাকা টোল আদায় হচ্ছে।

এছাড়া টোল আদায় কার্যক্রমের সঙ্গে প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান কিংবা প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা নেই। তারপরও তাঁদের বিরুদ্ধে টোল চুরি বা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর।

আমরা মনে করি, প্রকল্পটির বাস্তব সুফল আড়াল করে একপেশে তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে এ ধরনের অপপ্রচার শুধু জনমনে বিভ্রান্তিই সৃষ্টি করে না, বরং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রতি আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

অতএব, সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে দেশের গণমাধ্যমগুলোকে উন্নয়নমূলক প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই এবং সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার চর্চা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি। বিনীত,সচেতন নাগরিকবৃন্দের চট্টগ্রাম।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর