দুদকের কোন তৎপরতা নেই

এমরান হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১
  • ৫০ বার পঠিত

 

ব্যাংকের ঋনের কমিশনের দুর্নীতিতে শত শত কোটি টাকা ও অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন কাশেম

ব্যাংকের ঋনের কমিশনের দুর্নীতিতে শত শত কোটি টাকা ও অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন কাশেম

অনুসন্ধানে জানা যায়,লোহাগাড়া থানার আধুনগর সিপাহীর পাড়ার মৃত আবদুর রশিদের ছেলে মোহাম্মদ আবুল কাশেম,কয়েক বৎসর পুর্বে কিছুই ছিলনা। কোন চাকরী বা ব্যবসা। গত কয়েক বৎসরে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলীয় প্রভাবশালী কিছু নেতার নাম ব্যবহার করে,নোমান গ্রুপের প্রতিষ্ঠান জাবের-জুবাইয়ের ফ্রেব্রিক্স,নাইস ডেনিম,নোমান টেরি টাওয়েল,নাইস ফ্রেব্রিকস,সাদ টেক্সটাইল,নোমান টেক্সটাইল এবং গুলশান অফিস নুরুল ইসলাম হাউসসহ আরো কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের নামে সোনালী ব্যাংক,রুপালী ব্যাংক,অগ্রনী ব্যাংক,জনতা ব্যাংক,বেসিক ব্যাংকের হেড অফিসের ম্যানেজারদের সাথে জোগসাজশের মাধ্যমে অবৈধভাবে মোটা অংকের কমিশনের বিনিময়ে,  নোমান গ্রুপের তথ্য গোপনের মাধ্যমে নোমান গ্রুপের একই জায়গা এবং একই শিল্প প্রতিষ্টানের নামে উপরে উল্লেখিত সরকারি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋন নেন। যা বাংলাদেশ সরকারের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এছাড়াও নোমান গ্রুপের আরো অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে বেসরকারি ব্যাংক থেকেও  জালিয়াতি তথ্য গোপনের মাধ্যমেও হাজার কোটি টাকা ঋন নেন,যা প্রতিষ্টানের মুল্য থেকে অনেক গুন বেশি। কোন সময় নোমান গ্রæপ দেউলিয়া ঘোষিত হইলে দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে বলে জানা যায়। অনুসন্ধানে আরো জানাযায়, কাসেমের সাথে রাকিব নামে এক লোক যোগ হয়ে সেও এই ব্যাংক দুর্নীতির অনিয়মে রাতারাতি বড় লোক হয়ে অনেক টাকা পয়সা গাড়ী বাড়ীর মালিক হয়ে যায়। অন্যদিকে কাশেম এই ব্যাংক গুলোর মোটা অংকের কমিশনের দুর্নীতি ও অন্যান্য চাঁদাবাজীসহ আরো অনেক অনিয়মের টাকায় রহস্যজনকভাবে রাতারাতি আংগুল ফুলে কলাগাছ বনে গিয়ে শত শত কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে কাসেম থেকে আবুল কাসেম চৌধুরী বলে নিজেকে পরিচয় দেন। অথচ তিনি বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের কোন পদ পদবীতে নেই। তিনি রুপগঞ্জের ভুলতা গাউছিয়া মার্কেটে গ্রাউন্ড ফ্লোরে ১০/১২টা দোকান এর মালিক, যার গুলিস্তান ফুলবাড়িয়া জাকির সুপার মার্কেট ও ফুলবাড়িয়া সিটি সুপার মার্কেটে কয়েকটা দোকান,যার অনুমানিক মুল্য ২কোটি ৫০ লক্ষ টাকা।  ধানমন্ডিতে কলাবাগানে অত্যাধুনিক বিশাল ফ্ল্যাট যার অনুমানিক মুল্য ২ কোটি টাকার উপরে। বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার আজিজনগর ষ্টেশনে অবস্থিত রয়েল টেক্সটাইল লিমিটেড হঠাৎ সে প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকার অত্যাধুনিক  মেশিন এবং সেখানে বিশাল ৪ তলা বিশিষ্ট নবনির্মিত অত্যাধুনিক দুটি মার্কেট রয়েল মার্কেট ও কাসেম শপিং কম্পেলেক্স।  বিশাল গরুর ফার্মসহ সব মিলিয়ে যার অনুমানিক মুল্য  শত কোটি টাকার উপরে ।  তিনি লেন্ড ক্রুজার প্রাডু ও রাড়ু সহ বিভিন্ন নতুন মড়েলের নিত্য-নতুন গাড়ি নিয়ে চলা-ফেরা করেন। নিজ গ্রামে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আধুনগর সিপাহীর পাড়ায় লোক দেখানো অনেক অর্থ খরচের মাধ্যমে বিরাট মাদ্রসা ও বাড়ী নির্মানকাজ চলমানসহ আরো নামে বেনামে অনেক অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ব্যাংক ব্যালেন্স রয়েছে যার কোন হিসাব নেই বলে জানা যায়।সাংবাদিকদেরকে স্থানীয় কিছু সচেতন মহল জানান কাসেম আগে কোন টাকা পয়সা ধন সম্পদ, গাড়ী-বাড়ীর মালিক ছিলনা সত্য, কিন্ত সে বর্তমানে বড় লোক হয়ে এলাকায় অনেক টাকা পয়সা দান সদকা করে এটিও সত্য।কাসেমের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই বিষয়ে কিছুই মন্তব্য করতে রাজী হন নাই।সরকারি ব্যাংকের ঋনের কমিশনের দুর্নীতিতে শত শত কোটি টাকা ও অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন চট্রগ্রামের লোহাগাড়ার কাশেম নামে এক লোক।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়