রাজধানীর বনানী থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয়ধারী মোঃ
মনিরুজ্জামান তোফায়েলের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি দপ্তরে তদবির এবং পিআইডির পরিচয়পত্র দেওয়ার নামে অর্থ গ্রহণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ৫ আগস্টের পর তিনি সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ শুরু করেন।
বর্তমানে তিনি দৈনিক নবজীবন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে পত্রিকাটির সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মনিরুজ্জামান তাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় প্রায় ছয় মাস আগে তাঁকে প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি মনিরুজ্জামানকে প্রতারক বলেও মন্তব্য করেন।
নারায়ণগঞ্জের মান্নান মিয়া অভিযোগ করেন, ডিসি অফিসের একটি ফাইল পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সোহেল রানা নামে একজন ভূক্তভূগী অভিযোগ করেন, খাগড়াছড়িতে তাঁদের ওয়ারিশদের জমি সরকার অধিগ্রহণ করায় ক্ষতিপূরণের টাকা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মনিরুজ্জামান বিভিন্ন সময়ে ওয়ারিশদের কাছ থেকে ২০ হাজার, ৫০ হাজার, ১ লাখ ৭০ হাজার ও ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।গনপূত মন্ত্রণালয়ের সচিব তার ঘনিষ্ঠজন বলে আমাদের সাথে সম্পক করেন।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালযয়ের যুগ্ন সচিব আর এলাকার ছোটভাই, এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী চাচা পারিবারিক আত্মীয় ও এপিএসের ঘনিষ্ঠজন পরিচয় দিয়ে তিনি তদবির বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন।
এ ছাড়া পিআইডির পরিচয়পত্র দেওয়ার কথা বলে প্রতিটি কার্ডের জন্য এক থেকে দেড় লাখ টাকা গ্রহণ এবং এভাবে প্রায় ২২-২৩টি কার্ডের বিপরীতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সচিবালয়ে অস্থায়ী প্রবেশপত্র (ওটিভি) সংগ্রহ করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে জনপ্রতি এক হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে আর্থিক লেনদেন, হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগ, পিআইডির কার্ড ইস্যু ও সচিবালয়ের প্রবেশপত্রসংক্রান্ত নথি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এনএসআই, সচিবালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান তোফায়েলের বক্তব্য চাওয়া হলে সাংবাদিকপরিচয় দেওয়া আর কথা বলতে চান নাই।