মেহেরপুর ৯৭/৯৯ বন্ধুদের মিলনমেলা ঐতিহাসিক মুজিবনগরে

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ১১১ বার পঠিত

 

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে মেহেরপুর জেলার ঐতিহাসিক মুজিবনগরে ৯৭/৯৯ এসএসসি/এইসএসসি ব্যাচের মহা মিলন মেলা। আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালিত হবার কারণে ১৭ ডিসেম্বর পরে ১৮ ডিসেম্বর পরবর্তীতে সার্বিক দিক বিবেচনায় বিজয়ের মাসে ১৭ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল থেকে ঐতিহাসিক মুজিবনগর আম্রকাননে এ মহা মিলন মেলা অুনষ্ঠিত হবে বলে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
“যখন বুকের রক্তে লিখেছি বন্ধু নামটি” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশ থেকে আগত প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ জন ৯৭/৯৯ এসএসসি/এইসএসসি ব্যাচের বন্ধুরা মহা মিলন মেলায় অংশ গ্রহণ করবে।
মিলন মেলায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ, লাঠি খেলা, সাপ খেলা, সন্ধ্যার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ডিজে পার্টি সহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মিলন মেলা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হবে বলে আয়োজনের দায়িত্ব প্রাপ্ত বন্ধুরা জানিয়েছেন।

মেহেরপুরে আমরা বন্ধু ৯৭/৯৯ এর বন্ধুদের মিলননমেলা ১৭ই ডিসেম্বর ২০২১ উপলক্ষে টিকিট প্রাপ্তির জন্য মেহেরপুর জেলা শহরের জন্য নিয়ন ০১৭১৬১১৬৬৮০ ও
আনিস ০১৯১৭৮২৮৯২৮ এর সাথে যোগাযোগ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

মেহেরপুর সদর উপজেলার ঐতিহাসিক আমঝুপি এলাকার জন্য সেলিম ০১৭৫৫৫৬৫৪৫৯ এবং গাংনী উপজেলা শহরের জন্য সাইফুল ইসলাম রতন ০১৮২৩৪০০৪০০ এর সাথে যোগাযোগ করুন।

যেহেতু সারাদেশ থেকে বন্ধুরা মিলিত হবেন, সে হিসেবে রাজধানী ঢাকা শহরে টিকিট পেতে শামস আল দ্বীন ০১৯১৪২৭৭৬৬৯, আশেক খান ০১৭১৬২৮৮৮৮১, মাসুম সোহেল ০১৭৮৯৪৩৯৫০৫, জহিরুল জুয়েল ০১৯৮৯৯৬০১৬৮,
মোয়াজ্জেম জুয়েল ০১৬৩২০২৫১৭৫, সোহেল চৌধুরী ০১৭১৭৭৫০০০৫,
সোহেল কল্পতরু জুয়েলার্স ০১৭৮৪৪৬৭৩৫৫, কানিজ ফাতেমা ০১৭১২৪৬৩০৭৩ এবং
আতাহার উদ্দিন সোহান
০১৭১৩১৪১৬৮০ এর সাথে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে এবং ঢাকা শহরের সাভার এলাকায়
ফারুক ০১৭২২১৪১১৮৩ কে টিকিট/রেজিষ্ট্রেশন কূপন বিক্রয়ের এর জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত বন্ধুদের ক্লান্তি দূর করতে
হোটেলে রেস্ট নেবার জন্য বুকিং এর জন্য যোগাযোগ করুন, সোহেল ০১৯১৯০০৩৩৫৫ ও প্রদীপ ০১৭১২৯৮৩২৭৩ এর সাথে।

মেহেরপুর ও মুজিবনগর এ থাকার জন্য কিছু হোটেলের তথ্য জানানো যাচ্ছে দূরদূরান্তের বন্ধুদের জন্য। মেহেরপুরের আবাসিক হোটেল সমুহ👇
ফিন টাওয়ার, সোহাগ গেস্ট হাউজ, রনি হোটেল, প্রিন্স প্লাজা ও এজাজ প্লাজা।
এছাড়াও মেহেরপুর জেলা পরিষদ বাংলো, পৌরসভা টাউন হল, পর্যটন বাংলোও রয়েছে। হোটেল বুকিং থাকবে ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
হোটেল বুকিং, ভাড়া, সুযোগ সুবিধা, নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য আমরা বন্ধু-৯৭ এর প্রদীপ ও সোহেল সহযোগিতায় থাকবেন বলে জানা গেছে।

এছাড়াও মিলন মেলার দিন মুজিবনগর বাংলো পুরোটা আমাদের আয়োজনের জন্য বুকিং থাকবে, যেখানে আমরা বন্ধু-৯৭ এর জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সেখানে সকলেই রেস্ট নেওয়া, ফ্রেশ হওয়া ও ড্রেস চেঞ্জ করতে পারবেন।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মেহেরপুরের ঐতিহাসিক মুজিবনগরে আসার জন্য বন্ধুদের জন্য কিছু বাস সার্ভিসের কথা না জানালেই না। রাজধানী ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্হান থেকে মেহেরপুরগামী বেশ কিছু দূরপাল্লার বাসযোগে মিলনমেলায় যোগদান করতে পারবেন। জেআর পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, এসবি সুপার ডিলাক্স, মেহেরপুর ডিলাক্স, শ্যামলী পরিবহন, এনপি ফাতেমা স্পেশাল, মুজিবনগর ডিলাক্স, পূর্বাশা পরিবহন, সনি সুপার ডিলাক্স, হানিফ এন্টার প্রাইজ, চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্সসহ বিভিন্ন বাস ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যস্হল থেকে মেহেরপুরের উদ্দেশ্যে ভোর থেকে মধ্যরাত অবধি চলাচল করে।
প্রিয় বন্ধুরা, জানিয়ে রাখি, ২০১৯ সালে মেহেরপুর জেলার এসএসসি-৯৭ ব্যাচের বন্ধুদের নিয়ে “আমরা বন্ধু-৯৭ (SSC 97 Batch – Meherpur District)” নামে এই ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে আমরা মেহেরপুরের মুজিবনগরে অর্গানাইজ করি আমাদের প্রথম গেট টুগেদার। বন্ধুদের ব্যাপক অংশগ্রহণে একসাথে চলা শুরু হয় সেদিন থেকেই। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালে মেহেরপুর সদর উপজেলার ঐতিহাসিক আমঝুপি নীলকুঠিতে আয়োজন করা হয় আরও একটি মিলন মেলা। সেবারও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় একটা সুন্দর দিন কাটে সকল বন্ধুদের হাতে হাত রেখে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। সেবারও মেহেরপুর জেলার সদর, গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকাসহ চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী ও ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন জেলার বন্ধুরা অংশ গ্রহণ করেন। আমরা ফিরে পেয়েছিলাম প্রাইমারী স্কুল, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত চেনা-অচেনা বন্ধুদের। যেটা এখনও চোখের সামনে ভেসে ওঠে। তবে ভুল ছিলো শিক্ষকদের সঙ্গে না নিয়ে। এবারও সে ভুলটি হতে চলছে। তবে জল্পনা কল্পনা চলছে এবারে ১৭ ডিসেম্বরের মিলন মেলায় শিক্ষকদের আমাদের অনুষ্ঠানে রাখা যায় কিনা সে ব্যাপারে। তবে সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মিলন মেলার দিন পর্যন্ত।

উল্লেখ্য, ডিসেম্বর মাস আসলেই আমাদের রক্ত আবার চঞ্চল হয়ে ওঠে বন্ধুদের কাছে পাবার জন্য।
সে লক্ষ্যেই আগামী ১৭ ডিসেম্বর, ২০২১ আমরা আবারও মিলিত হতে যাচ্ছি মেহেরপুরের ঐতিহাসিক মুজিবনগর কমপ্লেক্স/আম্রকাননে।

আবারও দেখা হবে, কথা হবে, মাস্তি হবে। জানা হবে ঐতিহাসিক মুজিবনগর সম্বন্ধে। তো আর দেরি কেন? যদিও টিকিট সংগ্রহের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত তবুও বলছি বন্ধুত্বের বন্ধন কে অটুট রাখতে, সকলে মিলিত হতে আজই টিকিট সংগ্রহ করো এবং চলে এসো ঐতিহাসিক মুজিবনগর।
তোমাদের সাথে আবারও মিলিত হবার প্রত্যাশায় বন্ধু-৯৭

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

 

 

 

বগুড়ায় ট্রেন চালকের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে দোলন চাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন। ওই ঘটনায় দু’জন আহত হলেও কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। রেল লাইনের উপর অবৈধ দোকানগুলো ওই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ত্রিশ গজ দূরেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে (বগুড়া রেলস্টেশন থেকে একনম্বর ঘুমটি পর্যন্ত ) প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ কাপড়ের দোকান রেল লাইনের উপর রয়েছে। বগুড়ার পুরাতন কাপড়ের বড় মার্কেট এটি। পরিচিত ‘হঠাৎ মার্কেট’ হিসেবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে। বছরে একবার করে রেল থেকে ওইসব দোকান উচ্ছেদ করলেও দুই তিনদিন পরে আবারও দোকান আগের মতো বসে। মূল রেল লাইনের উপর তাঁবু টানিয়ে এসব দোকান বসানো হয়েছে। ট্রেন চলে আসলেই দ্রুত তাবুগুলো সরে ফেলা হয়। কয়েক বছরে প্রায় ৭-৮ জন ক্রেতা এবং বিক্রেতার প্রাণহানি ঘটেছে এই হঠাৎ মার্কেটে।

বগুড়ার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম জানান, দুপুর ১১টায় দোলন চাঁটা আন্তঃনগর ট্রেন বোনারপাড়া থেকে বগুড়ায় আসছিল। অপরদিকে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেক্স ঢাকা থেকে বগুড়া স্টেশনে আসতে থাকে। সিগন্যাল এবং পয়েন্ট ঠিক করে দোলনচাঁপা ট্রেনটির জন্য দুইনম্বর লুপ লাইনে এবং লালমনি এক্সপ্রেক্সকে একনম্বর লাইনে আসার নির্দেশনা ঠিক করা হয়। দোলনচাঁপা ট্রেনটি হুইসেল দিতে দিতে দুই নম্বর লুপ লাইন দিয়ে স্টেশনে আসতে থাকে।

‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদারদের জানা ছিল ওই ট্রেনটি একনম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা দোকানের তাবু সরাইনি। কিন্তু যখন ট্রেনটি দুইনম্বর লুপ লাইন দিয়ে হুইসেল দিতে দিতে আসতে থাকে তখন দোকানদার এবং ক্রেতারা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়ে পালাতে থাকে। ট্রেন চালক দ্রুততার সাথে ট্রেনটি ব্রেক করায় দোকানের মালামাল নষ্ট হলেও কোন প্রাণ হানি ঘটেনি। নইলে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ নভেম্বর লালমনিহাট থেকে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা স্টেশনের পাশের একটি মার্কেটের প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার সময় ‘হঠাৎ মার্কেট’দুইদিন বন্ধ ছিল। পরে ২২ নভেম্বর আবারও ‘হঠাৎ মার্কেট’র দোকানদাররা তাদের দোকান বসায়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে রেল স্টেশন সীমানার মধ্যে এবং লাইনের উপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য ২৩ নভেম্বর চিঠি দেয়া হয়।

স্টেশন মাষ্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গা ১৪৪ ধারা সবসময়ের জন্য জারী থাকরেও এসব কেউ মানছেনা। স্টেশন মাষ্টার অভিযোগ করে বলেন, সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারনে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ, ট্রেনের আসা যাওয়ার মূল বিষয়টি হলো সিগন্যাল এবং পয়েন্ট।

বগুড়া রেল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলম জানান, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবীরের কারণেই রেল লাইনের উপর অবৈধ হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। লাইনের উপর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার থাকলেও প্রতিদিন লাইনের উপর মার্কেট দেখার পরেও উনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দোকানদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

তবে রায়হান কবীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার থাকলেও কেন ওইসব দোকান দেখেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।

বগুড়া জিআরপি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর কায়কোবাদ জানান, ঘটনাটি জানার পরে সেখানে আমরা দ্রুত যাই। কিন্তু কোনো আহত কিংবা নিহত ব্যক্তির খোঁজ পাইনি। তবে আশেপাশের লোকজন জানিয়েছেন, চার-পাঁচজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ন স্টেশন মাষ্টার বজলুর রশিদ জানান, দুইজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫)। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আরও কয়েকজনের কথা শুনলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেল লাইনের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত ৫/৬ বছরে প্রায় ৭-৮জন ট্রেনে কেটে হঠাৎ মার্কেটে মারা গেছে। এদের মধ্যে ক্রেতা এবং দোকানদারও ছিল। বুধবার যদি ট্রেনের চালক দ্রুত ব্রেক না করতো তাহলে কয়েক’শ লোকের প্রাণহানি ঘটতো।

কয়েক’শ মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে ট্রেন চালকের দক্ষতায়